পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য সহজীকরণ ও দ্রুততার সঙ্গে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) চট্টগ্রাম কেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ফয়সাল আহমেদ শান্তের মা কহিনূর আক্তার। এ সময় শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। শনিবার (২৮ জুন) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বিএসটিআইয়ের নবনির্মিত বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফয়সাল আহমেদ শান্তের মা কহিনুর আক্তার বলেন, শান্ত একটি সুন্দর, শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখত। সে চেয়েছিল এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হোক, প্রতিটি যুবকের মেধা ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হোক। আমার সন্তান যে লক্ষ্য পূরণে শহীদ হয়েছে, সে লক্ষ্য যেন পূর্ণ হয়।
তিনি বলেন, আমি একজন মা, একজন শহীদ জননী। আমার সন্তান আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু তার আদর্শ, তার সংগ্রামী চেতনা আমার হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।
উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, বিএসটিআই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প-বাণিজ্যের গতিশীলতা ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আজকে এ অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিসহ ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামে বিএসটিআইর ল্যাবরেটরিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাবরেটরি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে বিএসটিআইর সেবার জন্য চট্টগ্রামের মানুষকে ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। এটি এ অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্যকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নেবে এবং ভোক্তা সুরক্ষাকে আরো শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, দেশের ভেতরে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন এবং মানসম্পন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পণ্যের মান বিষয়ক চুক্তি ও ল্যাবরেটরিগুলোর অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করেছে। এর ফলে বিদেশে বাংলাদেশী পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআইর মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম, চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শাহজালাল চৌধুরীসহ চট্রগ্রামের ব্যবসায়ী, চট্রগ্রাম চেম্বারের প্রতিনিধি, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা।















