দেশে নতুন করে জ্বালানি তেল বা গ্যাসের দাম না বাড়লেও হঠাৎ করেই নারায়ণগঞ্জে বাস ভাড়া বাড়িয়েছে মালিক সমিতি। জনপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এটাকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

তাদের দাবি, বাস মালিকরা জেলা প্রশাসক ও কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতাকে ম্যানেজ করে বাস ভাড়া বাড়িয়েছে। বর্ধিত ভাড়া যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

গত বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়ার সভাপতিত্বে যাত্রী ও গণ পরিবহন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশীজনরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে জেলা প্রশাসক বাস ভাড়া বাড়ানোর পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন, উৎসব, মৌমিতা, বোরাক ও আনন্দ পরিবহনের ব্যানারে ২০০-এর বেশি বাস চলাচল করে। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে একজন বাস মালিক জানান, প্রতিদিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে একটি বাস চারটি সিঙ্গেল ট্রিপ অর্থাৎ আটবার আসা-যাওয়া করে। প্রতি ট্রিপে ৪৫ জন যাত্রী পরিবহন করে। সে হিসাবে জনপ্রতি ৫ টাকা বেশি নিলে ২২৫ টাকা বেশি আদায় হচ্ছে, যা আট সিঙ্গেলে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০০ টাকা। মাসে দাঁড়ায় ৫৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে ২০০ গাড়ি থেকে মাসে বেশি আদায় হবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ যাত্রী অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বাস ভাড়া বাড়ানোর জন্য সরকারের নতুন কোনো প্রজ্ঞাপন নেই। কিন্তু হুট করে ভাড়া ৫৫ টাকা করা অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য।’

তবে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘বাস মালিকরা ২৫ জুন বাসের ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করেন। গত সপ্তাহে বাস মালিকরা জানান, ৫০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি ভাড়া বৃদ্ধি না করা হয় তবে তারা বাস চলাচল বন্ধ করে দেবেন। এ কারণে বুধবার অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বাস মালিকরা ৬১ টাকা ভাড়ার নির্ধারণের জন্য বলেন। বিআরটিএ দূরত্ব হিসাব করে জানায় ৫৭ টাকা ৩৬ পয়সা ভাড়া আসে। পরে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।’