নির্বাচনের কারণে সপ্তাহজুড়ে বরিশাল আড়তে মাছ সরবরাহ কমেছে। নদী বা সাগর থেকে মাছ নিয়ে আসেননি জেলেরা। গতকাল ভোটের দিন ক্যারম খেলে অলস সময় কাটিয়েছেন আড়তদার ও শ্রমিকরা। তাদের অনেকেই গেছেন ভোট দিতে।

সংশ্লিষ্টার জানান, ভোটের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই সাগর ও নদীতে জেলেরা মাছ ধরেননি। ফলে আড়তেও আসেনি মাছ। এর প্রভাব পড়েছে মৎস্য আড়তে।

বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, নদী ও সাগর থেকে মাছ ধরার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশ সরবরাহ করা হয়। ভারতেও বরিশাল জেলা মৎস্য পাইকারি অবতরণ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সময় মাছ রফতানি হয়। সাগর ও নদী থেকে আসা মাছ পাইকারি ক্রয় করে তা রফতানি করেন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে গত এক সপ্তাহ তা বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনের দুদিন আগ থেকেই এখানকার ব্যবসা গুটিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন মৎস্য আড়তদার ও শ্রমিকরা।

আড়তের শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোটের আমেজ শুরুর পর থেকেই সাগর বা নদী থেকে মাছ নিয়ে আসছে না ট্রলার। তার ওপর চলছে জাটকা ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহ বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।’

মাছ না আসায় শ্রমিকরাও গতকাল ক্যারম খেলে সময় পার করেছেন। কেউ কেউ ভোট দিতে বাড়ি চলে গেছেন। ফলে গতকাল অনেকটাই ফাঁকা ছিল বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র।

বরিশাল পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতি ও মহানগর মৎস্য শ্রমিক লীগের সভাপতি খান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বরিশালের জেলেরাও তো ভোটার। তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নিজ নিজ এলাকায় ভোটের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তারা। এজন্য নদী বা সাগরে জাল ফেলেননি। যে কারণে মাছ আসছে না আড়তে। মাছ না এলে অলস বসে থাকা ছাড়া আর কী করার আছে। এক সপ্তাহ ধরে আড়ত থেকে দেশের কোথাও মাছ সরবরাহ হয়নি। যেসব শ্রমিক বরিশালের ভোটার, তারা ভোট দিয়ে আড়তে এসে সময় কাটিয়েছেন। আর যারা অন্য এলাকার বা দূরের, তারা নিজ নিজ এলাকায় ভোট দেয়ার জন্য আগেই চলে গেছেন।’