পারিবারিক পূর্ব বিরোধের জের ধরে মাগুরা সদর উপজেলার বারাশিয়া গ্রামে মাহিদ হোসেন (৭) নামে এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজের চার দিন পর আজ রোববার বারাশিয়া এলাকার নবগঙ্গা নদী থেকে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরিরা। 

মাহিদ বারাশিয়া গ্রামের মুজিবুর রহমান মোল্যার ছেলে। সে বারাশিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় মাহিদের চাচাত ভাই রোহান (১৬) ও তার বাবা আসলাম মোল্যাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মাহিদের বাবা মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, তিন বছর আগে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে চাচাতো ভাই আসলাম মোল্যার সঙ্গে বিরোধ হয় তার। এই বিরোধের প্রতিশোধ নিতেই আসলাম মোল্যা ও তার ছেলে রোহান পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত বুধবার সকালে মাহিদকে পার্শ্ববর্তী নবগঙ্গা নদীতে নিয়ে যায়। সেখানে মাহিদকে তালের গুঁড়ির সঙ্গে বেঁধে ডুবিয়ে দেয়। ছেলের খোঁজ না না পেয়ে ওই দিন রাতেই মাগুরা সদর থানায় জিডি করেন মুজিবুর রহমান। পরদিন একটি অপরিচিত নম্বর থেকে মাহিদের নানা দুলাল হোসেনের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে ফোন নম্বরটির সূত্র ধরে রোহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোহান হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ নবগঙ্গা নদীতে খুলনা থেকে আসা দমকল বাহিনীর ডুবুরিদের মাধ্যমে দুই দিন তল্লাশি শেষে আজ বেলা ২টায় মরদেহ উদ্ধার করে। 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় রোহান ও তার বাবা আসলাম মোল্যাকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাহিদের বাবা সদর থানায় এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।