চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেড়েছে স্বাভাবিক প্রসবে শিশু জন্মগ্রহণের হার। গত পাঁচ বছরে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেয়া শিশুদের সংখ্যা পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। পাঁচ বছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ হাজার ১১৪টি শিশু স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নিয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি জন্ম হয়েছে ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২১ সালে। ওই তিন বছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ২ হাজার ৫৮৬টি শিশু। আর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৪৫৩টি শিশু জন্ম নিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে শিশুর জন্মের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মা শিশুজন্মের আগে ও পরে বিনামূল্যে বিভিন্ন রকম সেবা পান।’
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ হাজার ১৬ জন প্রসূতি প্রথম পর্যায়ে (এএনসি-১) চিকিৎসা নিয়েছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে (এএনসি-২) চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৩৪ জন। ৪০৭ জন নিয়েছেন তৃতীয় পর্যায়ের (এএনসি-৩) চিকিৎসাসেবা। চতুর্থ পর্যায়ের (এএনসি-৪) চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ৪০১ জন। ওই বছর ১ হাজার ৪৩টি শিশু জন্মগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ৭৯৯টি স্বাভাবিক প্রসবে ও ২৪৪টি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করে।
২০১৯ সালে কভিড-১৯-এর সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫৭ জনে। ওই বছর ১ হাজার ২৩৭টি শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৯৫৭টি শিশু স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে। বাকি ৩১৬টি শিশু জন্মগ্রহণ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। এছাড়া ওই বছর প্রথম পর্যায়ে (এএনসি-১) সেবা নিয়েছেন ২ হাজার ৮৮ জন প্রসূতি। ১ হাজার ৭৮৯ জন প্রসূতি নিয়েছেন দ্বিতীয় পর্যায়ের (এএনসি-২) সেবা। তৃতীয় পর্যায়ের সেবা নিয়েছেন (এএনসি-৩) ১ হাজার ৯০২ জন। ১ হাজার ৮৩৭ জন প্রসূতি নিয়েছেন চতুর্থ পর্যায়ের (এএনসি-৪) সেবা।
এছাড়া ২০২০ সালে জন্ম হয় ৮৭৬টি শিশুর। এর মধ্যে ৭৮৪টি শিশুর জন্ম হয় স্বাভাবিক প্রসবে। ৯২টি শিশুর জন্ম হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে (এএনসি-১) সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৩১২ জন প্রসূতি। দ্বিতীয় পর্যায়ের সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৫ জন। ১ হাজার ১৩৮ জন নিয়েছেন তৃতীয় পযায়ের সেবা। চতুর্থ পর্যায়ের সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৪৮২ জন প্রসূতি। ২০২১ সালে ৮৪৩টি শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মগ্রহণ করে। স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেয় ৮৩০টি শিশু। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ১৩টি শিশুর জন্ম হয়। প্রথম পর্যায়ের (এএনসি-১) সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৯২ জন প্রসূতি। দ্বিতীয় পর্যায়ের সেবা নিয়েছেন ৯৯৫ জন। তৃতীয় পর্যায়ের সেবা নিয়েছেন ৭৮৯ জন। এছাড়া চতুর্থ পর্যায়ের সেবা নিয়েছেন ৯০০ জন প্রসূতি।
৮৮৬টি শিশু জন্মগ্রহণ করে ২০২২ সালে। এর মধ্যে ৭৪৪টি শিশু জন্ম নিয়েছে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় ১৪২টি শিশু। প্রথম পর্যায়ের (এএনসি-১) সেবা নিয়েছেন ৩ হাজার ৭৭ জন প্রসূতি। দ্বিতীয় পর্যায়ের (এএনসি-২) সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৬৫২ জন প্রসূতি। ১ হাজার ৮৮১ জন নিয়েছেন তৃতীয় পর্যায়ের (এএনসি-৩) সেবা। চতুর্থ পর্যায়ের সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ১৬১ জন প্রসূতি। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত জন্ম নিয়েছে ৫১০টি শিশু। এর মধ্যে স্বাভাবিক প্রসবে ৪৫৩টি শিশু জন্ম নিয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ৫৭টি শিশু।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আরিফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিগত পাঁচ বছরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ হাজার ১১৪ জন প্রসূতি স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে শিশু জন্ম দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে ২০১৯ সালে। গড়ে বিগত পাঁচ বছরে স্বাভাবিক প্রসব ৬৯ শতাংশ।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা প্রসূতি আফসানা ইয়াসমিন ও নিলুফা আক্তার জানান, মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। এখন ডাক্তার ও নার্সরা রোগীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন।










