চাঁদপুর-লাকসাম পর্যন্ত রেলওয়ের জমি রয়েছে ৮০০ একর। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমিই দখল হয়ে গেছে। এসব জমিতে গড়ে উঠেছে স্থাপনা। রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনার কারণে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকিও বাড়ছে। তবে চাঁদপুরে কী পরিমাণ জমি দখল হয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান রেলওয়ের কাছে নেই। মাঝে মধ্যে দুই-একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বড় ধরনের কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেললাইনের দুই পাশে কমপক্ষে দেড়শ ফুট খালি জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক। স্লিপারের দুই পাশে অন্তত ২০-৩০ ফুট জায়গা খালি রাখাও বাধ্যতামূলক। সেক্ষেত্রে দুই পাশে খালি রয়েছে মাত্র কয়েক ফুট। বাকি অংশ দখল হয়ে গেছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের ৬০ কিলোমিটার এলাকায় স্থাপনা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। মাঝে মাঝে ছোটখাটো উচ্ছেদ অভিযান হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার দখল হয়ে যায়। রেলপথের চাঁদপুর অংশে অবৈধ স্থাপনা থাকলেও আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তবে শিগগিরই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ভূসম্পত্তি বিভাগ। এরই মধ্যে ১২৪টি উচ্ছেদ মামলা করা হয়েছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, জেলার শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী, মেহের, ওয়ারুক, হাজীগঞ্জ, সদর উপজেলার মধুরোড, শাহতলী, মৈশাদী, শহরের কালীবাড়ি কোর্ট ও চাঁদপুর বড় স্টেশন এলাকায় রেললাইনের দুই পাশে ছোট-বড় স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য লিজ কিংবা অনুমতি নেয়া হয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।
এছাড়া শহরের চেয়ারম্যান ঘাট দর্জিবাড়ির সামনে থেকে শুরু করে মিশন রোড, লেকের পাড়, কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত টিনের এবং পাকা কিছু স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া রেললাইন ও রেলক্রসিংয়ে বসছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের পূর্ব মাথায় স্থানীয় লোকজন গড়ে তুলেছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
চাঁদপুর বড় স্টেশনের রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. জাফর আলম বলেন, ‘নতুনভাবে যেন জমি আর দখল না হয়, সেজন্য আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। যেগুলো দখল হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’










