স্বল্প পুঁজিতে ভালো মুনাফা হওয়ায় সাতক্ষীরায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাশরুম চাষ। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় অনেকেই ঝুঁকছেন মাশরুম চাষের দিকে। উৎপাদিত মাশরুম জেলার চাহিদা মিটিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুখরালী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা ইব্রাহিম সানা। ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেনের পরামর্শে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে ১০০টি পলিথিন প্যাকেটে পরীক্ষামূলক মাশরুম চাষ শুরু করেন। সফলতা পাওয়ায় ঢাকার সাভার মাশরুম উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষে উদ্যোগী হন। এখন প্রায় পাঁচ হাজার পলিপ্যাকে মাশরুম উৎপাদন করছেন তিনি। মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে এখন ইব্রাহীমের মূলধন রয়েছে ২০ লাখ টাকার ওপরে। উৎপাদন খরচ বাদে এ উদ্যোক্তার বছরে লাভ হয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।
তিনিই জানান, মাশরুম চাষের জন্য পলিথিন প্যাকেটে খড় বা বিছালী টুকরো করে তার সঙ্গে কিছু গমের ভুসি দিয়ে হালকা পানি ছিটিয়ে টাঙিয়ে দিতে হয়। দু-একদিন পর তাতে মাশরুমের বীজ বপন করতে হয়। এক মাসের মধ্যেই মাশরুম তুলে বাজারে বিক্রি করা যায়। এর পর একনাগাড়ে তিন মাস মাশরুম উত্তোলন করা যায়। প্রতি কেজি মাশরুম কাঁচা ২০০-২৫০ টাকা এবং শুকনা ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।
একইভাবে সফলতার গল্প শোনান জেলার তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের অঞ্জনা সরকার। ২০২০ সালে যুব উন্নয়ন থেকে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতে ১৫০টি প্যাকেটে মাশরুম চাষ শুরু করেন তিনি। এখন প্রতি মাসে তার আয় হচ্ছে ৬-৭ হাজার টাকা। তা দিয়েই নিজের হাতখরচ চালানোর পাশাপাশি বাবার সংসারেও কিছুটা ভূমিকা রাখেন অঞ্জনা।
অঞ্জনা জানান, ১৫০টি মাশরুম প্যাকেটে যা উৎপাদন হয় তা পুরোটাই স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা। কাঁচা প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয় মাশরুম। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে মাশরুম চাষের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাশরুম উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। মাশরুম চাষ খুবই সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে অনেকেই সফলতা পেয়েছেন। স্বল্পপুঁজিতে ভালো মুনাফা অর্জনের জন্য মাশরুম চাষের বিকল্প নেই। উৎপাদন বাড়াতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষীদের নানা ধরনের সহায়তাও দেয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘২০১৫-১৬ সালের দিকে চার-পাঁচজন তরুণ উদ্যোক্তা পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ করে সফল হন। এরপর তাদের দেখাদেখি বাড়তে থাকে উদ্যোক্তা। বর্তমানে জেলায় ১৩০-১৫০ জন চাষী মাশরুম উৎপাদন করছেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে চাষ হওয়ায় এখনো সরকারিভাবে চাষীর সংখ্যা বা সঠিক তথ্য নিরূপণ সম্ভব হয়নি।’










