মাদারীপুরে সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (জিএসআইডি-২) আওতায় প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচে দুই শতাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ চলছে। এর মধ্যে এলজিইডি’র উদ্যোগে ৮০ ভাগ মসজিদ ও মন্দিরের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্বিঘ্নে নামাজ ও প্রার্থনার কাজ করতে পারায় তারা খুশি। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাকারীরা বলছেন, সরকারের এ বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করা সম্ভব হবে। এই বিষয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে জেলার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি
ইউনিয়নের হাজরাপুর দরবার শরীফের উন্নয়মূলক কাজের জন্য মাদারীপুর এলজিইডি ২০২৩-২৪ অর্থ
বছরে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ টাকা দিয়ে দরবার শরীফের ভেতরে ওযুখানা নির্মাণ ও
মেঝেতে টাইলস বসিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। এতে হাজরাপুর এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা
ওযুখানা ব্যবহার করে মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে দরবার শরীফের পক্ষ থেকে জানালেন,
বরাদ্দের পরিমাণ আরো বেশি হলে মসজিদের আরো উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারতেন তারা।
হাজরাপুর দরবার শরীফের পীর আবু বকর সিদ্দিক বললেন, আমি এলজিইডি থেকে
আমাদের দরবার শরীফের মসজিদের সংস্কার কাজের জন্য ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। অফিস থেকে
বরাদ্দ আনতে কোনো ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়নি। আমি ওই বরাদ্দের টাকা পেয়ে আমাদের মসজিদের
ওযুখানা নির্মাণ করেছি। সেই সঙ্গে ওযুখানা ও তার সামনের অংশে টাইলস স্থাপন করেছি। আমাদের
এ বরাদ্দ প্রদানের জন্য সরকারকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।’
মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ নুরিয়া জামে মসজিদেও এলজিইডি থেকে ৬ লাখ
টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। মসজিদটির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান
জানালেন, এলজিইডি অফিস থেকে তারাও ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। বরাদ্দের টাকা দিয়ে তারা
মসজিদটির নিচতলায় কেচি গেট নির্মাণ করেছে। এছাড়া দোতলায় কিছু টাইলসের কাজ করেছি। আমরা
সরকারের এ সহযোগিতা পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি।
এদিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সেনদিয়া
নাট মন্দির সংস্কারের জন্য এলজিইডি থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের টাকা
পেয়ে মন্দির কমিটি পুরনো মন্দির ভেঙে নতুন নাট মন্দির নির্মাণ করেন। সরকারের পাশাপাশি
এ কাজে স্থানীয় এলাকাবাসীও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এখনো বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে
বলে জানালেন মন্দির কমিটির নেতারা।
পশ্চিম সেনদিয়া নাট মন্দির কমিটির কার্যকরী সদস্য ঠাকুর বারিকদার
বললেন, সরকার থেকে আমরা ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। সরকারের বরাদ্দের টাকার সঙ্গে আমাদের
এলাকাবাসীর টাকা মিলিয়ে আমরা নতুন করে নাট মন্দির নির্মাণ করেছি। এখনো বেশ কিছু কাজ
আমাদের বাকি রয়েছে। সরকার যদি নতুন অর্থবছরে আমাদের আরো কিছু টাকা বরাদ্দ প্রদান করে।
তাহলে আমরা আমাদের মন্দিরের বাকি কাজটুকু সম্পূর্ণ করতে পারব।
মাদারীপুর এলজিইডি’র জেলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, শুধু এ দুটি ধর্মীয়
প্রতিষ্ঠানই নয়। জেলার ৫টি উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এলজিইডির অধীনে প্রায় ১০ কোটি
টাকা খরচে ১৯০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাদারীপুর
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনিয়া বলেন, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো
উন্নয়ন প্রকল্পের (জিএসআইডি-২) আওতায় আমরা মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, ঈদগাহ, কবরস্থান
ও শ্মশানঘাট সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করছি। কাজের সিডিউল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের
কাছ থেকে আমরা শতভাগ কাজ বুঝে নিয়েছি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি
করতে দেয়া হয়নি। এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ হওয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষরা
খুব স্বাচ্ছন্দে তাদের ধর্মীয় কার্যক্রমগুলো করতে পারছে। আমরা এ প্রকল্পটিকে অত্যন্ত
গুরুত্ব সহকারে তদারকি করেছি।
মাদারীপুর জেলার মসজিদ মন্দির, গীর্জা, ঈদগাহ, কবরস্থান ও শশ্মানঘাটের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের সরকারের এ বিশেষ প্রকল্পের উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।










