নির্মাণ উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে রংপুরে সরকারি অবকাঠামো এবং সড়ক নির্মাণ কাজে মন্থরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখিত কাজগুলো নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা। এদিকে চলতি অর্থবছর (২০২২-২৩) শুধু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ব্যতীত অন্যতম সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনাকারী দপ্তরগুলো নতুন রেট হাতে না পাওয়ায় নতুন দরপত্রের আহ্বান করা হয়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনোয়ারা এন্টাপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, সড়কে বিভাগে ছোট-বড় মিলে গত বছর ১ কোটি ১০ লাখ টাকার মোট চারটি কাজ করেছেন। তবে শেষের দিকে উপকরণ সামগ্রীর মূল্য  প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তার প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। আগে পাথরের সিএফটি ১২০ টাকা কিনেছিলেন। পরে ওই পাথরের সিএফটি ১৭৫-৮০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন। আবার বিটুমিন দেড়শ কেজির ব্যারেল সাড়ে ৭ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকায় কিনেছেন পরে দাম হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা থেকে ১৩ হাজার টাকা। তাই তিনি মনে করেছেন নতুন মূল্য সমন্বয়  না করা হলে নতুন টেন্ডারে অংশ নেবেন না।

রংপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত ঠিকাদার মো. আবু তাহের। দীর্ঘদিন সুনামের সাথে কাজ করছেন। তিনি বলেন, গত অর্থবছর (২০২২-২৩) ৬ কোটি টাকার কাজ করেছেন। নির্মাণ উপকরণের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। তাই চলতি অর্থবছরে এলজিইডির প্রথম টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেননি। শুধু ঠিকাদার আরিফ এবং আবু তাহের নন বর্তমানে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা সরকারি দপ্তরগুলোর টেন্ডারের নতুন মূল্যসংযোজনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

এদিকে উপকরণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিতে রংপুরে চলমান বড় প্রজেক্টগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়কে শুরু করেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে শুধু  গণপূর্ত অধিদপ্তর রংপুরের অধীন চলমান রয়েছে প্রায় ১১২ কোটি টাকার ৪টি প্রকল্প। এর মধ্যে চলমান ৮৩ কোটি টাকার ক্যানসার হাসপাতাল অন্যতম। বর্তমানে একটি কাজে সবে মাত্র কার্যাদেশ পেয়েছে এছাড়া বাকি কাজগুলো আগের তুলনায় মন্থর গতিতে চলছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এখনো নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করেননি। নতুন মূল্যের কথা শুনেছেন এখনো তার হাতে পৌঁছেনি বলে তিনি জানান। তবে বর্তমানে আগের প্রকল্পের ৬০টি স্কুল ভবন নির্মাণকাজ চলছে। এদিকে রংপুর জেলা ঠিকাদার মালিক সমিতির সদস্য সচিব মো. রইচ আহমেদ বলেন, বর্তমাণে নির্মাণ উপকরণের মূল্য প্রায় শতকরা ৩৫ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই লাভ দূরের কথা ঠিকাদারদের জমি বিক্রি অথবা অধিক সুদে ধারদেনা করে কাজ শেষ করতে হচ্ছে। এতে অনেক ঠিকাদারের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।