মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ বীরের সম্মানে ২০০৮ সালে তার নিজ গ্রাম ‘মহিষখোলা’র নাম পরিবর্তন করে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। সেই থেকে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে নূর মোহাম্মদ নগরে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ। তবে বিদ্যালয় ও কলেজ এমপিওভুক্ত হলেও এখনো জাতীয়করণ হয়নি। জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামে প্রতিষ্ঠান দুটি জাতীয়করণের দাবি শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৮ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের পর বদলে গেছে নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিধন্য নূর মোহাম্মদ নগরের চালচিত্র। এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ। এখানে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়ে গর্বিত শিক্ষার্থীরা। এদিকে কাদামাটির সড়কগুলো হয়েছে পাকা। ঘরে ঘরে পৌঁছেছে বিদ্যুৎ।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা, রবিন, স্বজল বলেন, এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাদের দূরের স্কুলে যেতে হয় না। বাড়ির কাছের স্কুলে পড়তে পারছেন তারা। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে পেরে তারা গর্ববোধ করেন। তাদের দাবি দ্রুত স্কুলটি জাতীয়করণ করা হোক।

দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রজব আলী ও সালেহা খাতুন বলেন, এলাকায় স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রায় সব রাস্তাই পাকা করা হয়েছে। আগে কাঁচা রাস্তা দিয়ে বর্ষার সময় চলাচল করা যেত না। এখন রাস্তাগুলো পাকা হওয়ায় তারা খুব খুশি। তারা দ্রুত কলেজটি জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় আলমগীর জানান, কয়েক বছর আগেও এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না, এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলে। ফলে মোহাম্মদ নগরের বাসিন্দাদের জীবনে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে  আমানত শেখ ও জেন্নাতুন্নেছা দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় পাইকমারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২৩ বছর বয়সে ১৯৫৯ সালের ২৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ তত্কালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগ দেন। ১৯৭১-এর মার্চে ছুটি কাটাতে এসে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে ৮নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের ঝিকরগাছার গোয়ালহাটি গ্রামে সম্মুখ যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর মর্টার হামলায় শহীদ হন। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা এনামুল কবীর টুকু বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের বসতভিটায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা। নেই সীমানাপ্রাচীর। দ্রুত বসতভিটাসহ স্মৃতিস্তম্ভের সীমানাপ্রাচীর ও সেখানে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণের দাবি জানান তিনি। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, নূর মোহাম্মদের স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে প্রতিষ্ঠিত স্কুল ও কলেজ  জাতীয়করণের চেষ্টা করা হবে এবং তার বাড়িতে সীমানাপ্রাচীর ও বিশ্রামাগার নির্মাণসহ বেশকিছু উন্নয়ন করা হবে।