দেশী মুরগি ও ডিম উৎপাদনে জেলায় প্রধান ভূমিকা পালন করলেও রংপুর সরকারি হাঁস-মুরগি খামারে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে ৮০ হাজার কমেছে। খামার কর্তৃপক্ষ বাচ্চা উৎপাদন কমানোর জন্য বিদ্যমান বৈশ্বিক মহামারী করোনাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮০৭টি, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ হাজার ৩টি বেশি।

সরকারি হাঁস-মুরগি খামার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার পিস। সেখানে চলতি অর্থবছরে বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮০ হাজার কমিয়ে করা হয়েছে ২ লাখ পিস। তবে চলতি বছরেও ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫০ হাজারে রাখা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮০৭ পিস এবং ডিম উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৬০টি। গত অর্থবছর (২০২০-২১) একই সময়ে বাচ্চা এবং ডিম উৎপাদন হয়েছিল যথাক্রমে ১ লাখ ২ হাজার ৮০৪ পিস এবং ২ লাখ ১৪ হাজার ৪১৯টি। ফলে গত বছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে বাচ্চা ও ডিম উৎপাদন বেড়েছে যথাক্রমে ১৬ হাজার ৩ পিস এবং ৯ হাজার ৪১টি।

রংপুর জেলা পোলট্রি খামার মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আকবর হোসেন বলেন, হাঁস-মুরগি খামারে উৎপাদিত মুরগির বাচ্চা ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। সেখানে আবার উৎপাদন কমানো ঠিক হচ্ছে না। তবে তিনি মনে করেন ৬৫ বছরের পুরনো খামারটি আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে এ অঞ্চলে পোলট্রি খামারিদের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হবে না। পাশাপাশি বেকার শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হবে।

খামার সূত্র জানায়, সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মুরগি রাখার ১৯টি শেডের মধ্যে ছয়টি ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া অন্যান্য শেডের অবস্থাও তেমন ভালো নয়। বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে খামার চত্বরে। সীমানা প্রাচীরের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে হাঁস-মুরগি খামারে মুরগির বাচ্চা ও ডিম উৎপাদন হচ্ছে বছরের পর বছর।

মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর বিষয় জানতে চাইলে সরকারি হাঁস-মুরগি খামারের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ডা. মো. নাজমুল হুদা বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। তবে ছয় মাসে বাচ্চা এবং ডিম উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৬০ ও ৫০ ভাগ। তিনি আরো বলেন, খামারটির বর্তমান অবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি শিগগিরই খামারটির আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে।

নগরীর কলেজ রোডে ১০ একর জমির ওপর ১৯৫৭ সালে স্থাপন করা হয় হাঁস-মুরগির খামার। প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকলেও ১৯৮৬-৮৭ সাল থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশীয় মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ করা ও গ্রামীণ মুরগি পালন অব্যাহত রাখার কাজ করছে খামারটি। ফাওমি জাতের লেয়ার এবং আরআইআর জাতের মোরগের ক্রসের মাধ্যমে সোনালি মুরগি উৎপাদন করা হয়। সাড়ে পাঁচ মাস বয়স থেকে সোনালি মুরগি ডিম দেয়া শুরু করে। একটি মুরগি কমপক্ষে ১৮০-২২০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। একদিনের বাচ্চা (ফেব্রুয়ারি-অক্টোবর) প্রতিটির বিক্রি মূল্য ১২ টাকা এবং (নভেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত) প্রতিটি বাচ্চার বিক্রি মূল্য হচ্ছে ১০ টাকা।