খুলনা নগরে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। এর মধ্যে একটি খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প। অন্যটি ড্রেনেজ উন্নয়ন। প্রকল্প দুটির কাজ কয়েক বছর আগে শুরু হলেও নির্ধারিত মেয়াদে শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে দুটি প্রকল্পেরই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

নগরবাসী বলছেন, বিপুল অর্থ খরচ ও কর্মযজ্ঞের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ভারি বৃষ্টিতে জলজট সৃষ্টি হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কাজে ধীরগতির কারণে জনভোগান্তি বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পয়োনিষ্কাশন বর্জ্য পাইপলাইনের মাধ্যমে অপসারণের পরিকল্পনা নেয় ওয়াসা। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৬৫ শতাংশ। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রশস্ততা অনুযায়ী কোথাও সড়ক খুঁড়ে, আবার কোথাও যন্ত্রের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানো হবে। ওই পাইপের মধ্য দিয়ে পানি ও সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য নগরের ভেতরের আটটি পাম্প স্টেশনে যাবে। সেখান থেকে পাম্প করে বর্জ্যগুলো নগরের বাইরের মাথাভাঙ্গা ও ঠিকারাবাঁধ পরিশোধন কেন্দ্র দুটিতে পাঠানো হবে।

প্রকল্প কর্মকর্তা ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খান সেলিম আহম্মদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূল সড়ক বাদে অলিগলি ও ছোট সড়কে পাইপলাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরপর মূল সড়কগুলোয় পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় প্রায় সাত মাস কাজ বন্ধ ছিল। পরে আবার শুরু হয়। এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৬৫ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’

সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করে ম্যানহোল তৈরিতে ওয়াসার দীর্ঘ সময় লাগছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তিতে রয়েছে নগরবাসী। এতে অনেক স্থানে নতুন তৈরি করা ফুটপাত ও ড্রেন নষ্ট হচ্ছে। সড়কের ওপর ফেলে রাখা পেড়িমাটির স্তূপ, ভারি যন্ত্র ও ঢালাই কাজে ব্যবহৃত যান চলাচলের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরবাসী।

এ বিষয়ে নাগরিক সংগঠন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ্জামান বলেন, ‘ঠিকাদারের গাফিলতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় কোনো প্রকল্প সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধিসহ নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার সমন্বয়হীনতায় দীর্ঘমেয়াদি খোঁড়াখুঁড়িতে একদিকে যেমন অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ধীরগতির কাজে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর।’

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সাবেক সভাপতি কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘চলমান গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে ধীরে। দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও কাজ শেষ হচ্ছে না। এতে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ছে।’

একই অবস্থা ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পের। প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৮৮ শতাংশ। কাজের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে আরো দুই বছর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলনা সিটি করপোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৮৮ শতাংশ। এখন ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে রূপসা ঘাট-সংলগ্ন পাম্প স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ পাম্প স্টেশন নির্মাণের জন্য দুটি শুষ্ক মৌসুম লাগবে। এজন্য কাজের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, ‘প্রথম দফায় পাম্প নির্মাণকাজে দরপত্র আহ্বান করা হলেও তেমন কেউ অংশ নেয়নি। ফলে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র দেয়া হবে। কাজের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’