ঝিনুক একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের নাম। ঝিনুক থেকে পাওয়া যায় মহামূল্যবান বস্তু মুক্তা। বিশ্বব্যাপী অমূল্য রত্নরাজির ক্ষেত্রে হীরার পরই মুক্তার স্থান, যা প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়। সেই ঝিনুক আর মুক্তা দিয়ে গোপালগঞ্জে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শোপিস ও অলংকার। সাজিয়ে রাখা নান্দনিক কারুকাজ খচিত এসব শোপিস দেখে মনে হবে হীরা আর জহরতের ছড়াছড়ি। গোপালগঞ্জে মুক্তার অলংকার ও শোপিস প্রদর্শনীতে এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে।

গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের সার্কিট হাউজ রোডে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩০ জন উদ্যোক্তার তৈরি মুক্তা ও ঝিনুকের অলংকার এবং শোপিস প্রদর্শন করা হয়। দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উদ্যোক্তাদের ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

প্রকল্প পরিচালক মো. খালিদুজ্জামান বলেন, ‘২০২১ সালের মার্চে প্রকল্পটি শুরু হয়। প্রকল্প থেকে তিন বিভাগের ১০ জেলার ৫২টি উপজেলায় মুক্তা চাষের ২০০টি প্রদর্শনী করা হয়। এখনো বিভিন্ন উপজেলায় এ প্রদর্শনী চলমান। এখান থেকে ১ লাখ ইমেজ মুক্তা ও বিপুল পরিমাণ ঝিনুক উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তা ও ঝিনুকের অলংকার এবং শোপিসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় মুক্তার অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরিতে দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়। এতে ১০ জেলার ৩০ জন উদ্যোক্তা অংশ নেন।’

প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে তারা হস্তশিল্প গড়ে তুলতে পারবেন। তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশের বাজার দখল করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও উদ্যোক্তারা অবদান রাখতে পারবেন।’

উদ্যোক্তা শামিমা হক রিমা বলেন, ‘এখানে হাতেকলমে ঝিনুকে মুক্তা চাষ, উৎপাদন, সংগ্রহ, অলংকার তৈরি ও বাজারজাতকরণের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমরা অলংকার এবং শোপিস তৈরি করেছি। মুক্তার অলংকার তৈরি করে দেশের পাশাপাশি বিদেশের বাজার ধরতে পারব।’