নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মহাদেও নদ থেকে নিয়ম না মেনে বালি ও পাথর উত্তোলন করায় ইজারা বাতিল করা হয়েছে। ১০ নভেম্বর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ স্বাক্ষরিত আদেশে কলমাকান্দা উপজেলার ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও এবং বিশাউতি পর্যন্ত ৬ নম্বর বালি মহালের ইজারা বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে বালি ও পাথর উত্তোলন রোধে উপজেলা প্রশাসন গত ১৭ জুলাই, ২২ ও ১১ আগস্ট এবং ৫ সেপ্টেম্বর মোবাইল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাসহ অবৈধ ড্রেজার ও পাইপ নষ্ট করা হয়েছে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আরো জানা যায়, ইজারাদার শর্ত লঙ্ঘন করে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে রাতের আঁধারে চুরি করে বালি ও পাথর উত্তোলন করেছেন। এছাড়া উত্তোলন ‘তফসিলবহির্ভূত স্থান থেকে বালি পাথর উত্তোলন, ড্রেজার ব্যবহার, নির্ধারিত মাত্রার অধিক গভীরতায় বালি-পাথর উত্তোলন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট, বালি পরিবহনে জনগণের চলাচলে বিঘ্নসহ ইজারা চুক্তির ১৫, ১৭, ১৯, ২০, ২৭ ও ৩১ নম্বর শর্তাবলি লঙ্ঘন করায় ইজারাদেশ বাতিল করা হয়েছে। বালিমহালটি এখন সরকারের অনুকূলে আনয়ন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলমাকান্দার মহাদেও নদের ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও এবং বিশাউতি মৌজায় ৩৫ দশমিক ১৫ একর বালি মহাল ইজারা দেয়া হয়। ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা পান দুর্গাপুরের গুদারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. চান মিয়া, কিন্তু ইজারাদারের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত থেকে ইজারাকৃত নির্দিষ্ট জায়গা থেকে উত্তোলন না করে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী পর্যটন এলাকা খ্যাত মহাদেও, সন্ন্যাসীপাড়া, চিকনটুপ, বড়ুয়াকোনা, পাতলাবনসহ নদের বিভিন্ন এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালি ও পাথর উত্তোলন করা হয়।
এতে করে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি নদের গতিপথ পরিবর্তন, নদের তীরের বাড়িঘর, ফসলি জমি, বাগান, স্থানীয় বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গির্জা, রাস্তাঘাটসহ বেশকিছু স্থাপনা ভেঙে যাচ্ছে। অবৈধ বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মহাদেও নদ রক্ষা কমিটি, পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা, এআরএফবি, বাংলাদেশ গারো লিঙাম ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (মেগাম)সহ স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
গত ৩১ অক্টোবর মহাদেও নদ রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ তদন্ত করতে কলমাকান্দা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ইজারা বাতিল করা হয়েছে।










