অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত এবং যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। স্থানীয় সময় বুধবার (৫ মার্চ) জেনেভায় জাতিসংঘের দপ্তরে এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন: এগিয়ে যাওয়ার পথ নির্ধারণ’ শীর্ষক এ আলোচনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কও ছিলেন।

প্যানেল আলোচনায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রকাশের জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ দেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনের ফলাফল এবং সংগৃহীত ও বিশ্লেষিত প্রমাণগুলো ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাংলাদেশে চলমান জবাবদিহিতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করেন।

হাইকমিশনার তুর্ক বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় বিগত সরকারের কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সংগঠিতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এ সময়জুড়ে সংঘটিত কিছু অপরাধ মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে’। বাংলাদেশে জবাবদিহিতা, সত্য প্রকাশ এবং ক্ষত নিরাময় নিশ্চিতে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতা এবং সমর্থন অব্যাহত থাকবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে।

আলোচনায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ মুগ্ধর ভাই মীর মাহমুদুর রহমান নিহতদের পরিবারের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। সেইসঙ্গে আহতদের সহায়তায় কাজ করা সুশীল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ফারজানা শারমিন ইমুও আহতদের নানা অভিজ্ঞতার কথা জানান।

জেনেভাভিত্তিক কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সুশীল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এ প্যানেল আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘঠিত নৃশংসতার ওপর একটি ফরেনসিক ভিডিও প্রদর্শন। আলোচনা শেষে নির্ধারিত আইন উপদেষ্টা এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার তুর্ক উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেন।

পরে আইন উপদেষ্টা মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের মধ্যে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত নৃশংসতা ও অপরাধের জাতীয় জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ায় মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে সম্পৃক্তকরণসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ‘মায়ের ডাকে’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি প্যানেল আলোচনা এবং বৈঠকে ছিলেন।