সংকট কাটিয়ে উঠতে ভোলা থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে শুরুতেই কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) আকারে দৈনিক পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে পেট্রোবাংলা। শিল্পে বিতরণ করার লক্ষ্যে নেয়া এ উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করার পরিকল্পনা রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বণিক বার্তাকে বলেন, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভোলার গ্যাস শিল্প খাতে সরবরাহ করা হবে। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। শুরুতেই দৈনিক পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট আসবে। পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে তা দৈনিক ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হবে।
তবে কত দ্রুত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কারণ গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে নানা ধরনের কারিগরি জটিলতা রয়েছে। জ্বালানিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ গ্যাস সিএনজি আকারে নিয়ে আসতে, রাজধানী ও আশপাশের শিল্প এলাকায় সরবরাহ করতে কী পরিমাণ খরচ হবে তা নিয়েও নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
তবে পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোলা থেকে দ্রুত সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নীতিগত বিষয়, কারিগরি দিক, বাণিজ্যিক নীতিমালাসহ নানা বিষয় খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে কোন প্রক্রিয়ায়, কীভাবে গ্যাস নিয়ে আসা হবে সে বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্যাস নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়াগুলোর কথা মাথায় রেখে এগোচ্ছে পেট্রোবাংলা। পরিবহনগত জটিলতা কাটিয়ে আগামী জানুয়ারি নাগাদ ভোলার গ্যাস ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান গ্যাস সংকটে এ ধরনের পদক্ষেপ ইতিবাচক। কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত এ গ্যাস পরিবহন শুরু করা গেলে সেটি সংকট মোকাবেলায় কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, সিএনজিতে রূপান্তর করে ভোলার গ্যাস আনা গেলে তা শিল্প খাতে কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। যেহেতু বৃহৎ আকারে অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক চ্যালেঞ্জ ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার রয়েছে। সেহেতু এ প্রক্রিয়ায় গ্যাস আনা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ প্রক্রিয়ায় গ্যাস পরিবহন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দ্বীপ জেলা ভোলায় গ্যাসের মজুদ রয়েছে দেড় টিসিএফের বেশি। রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স ভোলার শাহবাজপুরে গ্যাস উত্তোলনে নিয়োজিত। দৈনিক ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উত্তোলন করা হলেও সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন সক্ষমতা রয়েছে ১৪৫ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি। কিন্তু চাহিদা না থাকায় বাকি গ্যাস ভোলায় ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে সিএনজি আকারে এ গ্যাস দেশের শিল্প খাতে সরবরাহ করা যেতে পারে, যা গ্যাস সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ভোলার গ্যাসকে সিএনজি হিসেবে রূপান্তরিত করে পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। সেখানে আমরা দৈনিক ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছি। উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী, সেখানে এখনো ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট উদ্বৃত্ত থাকছে। প্রয়োজনে এ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
দেশের শিল্প-কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরকারের প্রতি খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুরোধ করছেন শিল্পমালিকরা। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে বেশি মূল্য দিতেও তৈরি তারা। কিন্তু রিজার্ভ কমে যাওয়া ও ডলার সংকটের কারণে এলএনজি আমদানির সুযোগ দেখছে না সরকার।
সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের এক সেমিনারে আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেয়ার কথা বললেও তাতে সম্মত হননি প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। এর বদলে ভোলার গ্যাসকে সিএনজি আকারে নিয়ে আসার কথা জানান তিনি।










