পদ্মা-যুমনার পানি বৃদ্ধিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার হাতিঘাটা গ্রামে অবস্থিত আজিমনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্র নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
শনিবার রাত ১১টার দিকে হেলে পড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সম্পূর্ণরূপে নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
ফলে হাতিঘাটার জনমনে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এছাড়া লেছড়াগঞ্জ ও সুতালড়ীসহ চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ একাধিক স্থাপনাও ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
জানা যায়, চারদিন আগে পদ্মার ভাঙনের কবলে নদীতে হেলে পড়েছিল আজিমনগর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রের দোতলা ভবন।
চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালে এ স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রটি চালু করা হয়।
কিন্তু শনিবার রাতে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
এছাড়া ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বর্তমান নদীতীরবর্তীতে অবস্থিত আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, হাতিঘাটা আশ্রয়ণ কেন্দ্র, সোয়াখাড়া আদর্শ গ্রাম, ৫৭ নং হারুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা, হাতিঘাটা বাজারসহ পাকা-আধা পাকা একাধিক রাস্তা।
চলতি মাসের গোড়ার দিকে নদীভাঙনের কবলে পড়ে সুতালড়ী ইউনিয়নের ৩৭ নং রামচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনটির একাংশ ভেঙে পড়ে।
জানা যায়, চরাঞ্চলে আজিমনগরের হাতিঘাটায় ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠত হয় আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়।
ওই সময় বিদ্যালয়টি এডিবির অর্থায়নে টিনশেডের ১৫টি রুম তৈরির মধ্যদিয়ে যাত্রা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে চারতলা ফাউন্ডেশনে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়।
পরে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার বরাদ্দে পুনরায় শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ওই একতলার ওপরেই আরো তিনতলা ভবনের অনুমোদন দেয়।
নতুন অনুমোদিত ভবনের কাজ চলমান।
এরই মধ্যে নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের কারণে নদীভাঙন শুরু হয়।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সবুজ হোসেন জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি জেনে আমরা সরেজমিনে যাই এবং ভাঙনের অবস্থা দেখে আমরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক বরাবর বিদ্যালয়টি রক্ষায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি প্রদান করেছি।
আজিমনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন
মোবাইল ফোনে জানান, একে একে সব স্থাপনা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
শনিবার রাতে আজিমনগর স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্র নদীতে চলে গেছে।
আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। এছাড়া গত সপ্তাহে আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের একটা চিঠি আমরা পেয়েছি। কিন্তু ভাঙনরোধে তীব্র স্রোতের কারণে ওখানে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। কিছু করার চেষ্টা করলেও থাকবে না।










