ঢাকা-ভাঙ্গা-বেনাপোল মহাসড়কের নড়াইল অংশে পয়েন্টে পয়েন্টে হরেক রকম চাঁদা দিতে হতো পরিবহন মালিকদের। এসব টাকা আদায়ে গড়ে ওঠে বড় একটি সিন্ডিকেট, যেখানে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারাও জড়িতে ছিলেন বলে অভিযোগ। তিন যুগ ধরে চলা সেই চাঁদাবাজি সম্প্রতি বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। মূলত নড়াইলের প্রথম নারী পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুনের তৎপরতায় ভেঙে দেয়া হয়েছে প্রভাবশালীদের সেই সিন্ডিকেট। এমনকি তার বেশ কয়েকটি মাদকবিরোধী অভিযানও দারুণ সাড়া ফেলেছে। এরই মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছে জেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা। মাদক ব্যবসাও কমে এসেছে অনেকাংশে। এজন্য স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নড়াইলের ব্যবসায়ী, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। 

দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা-ভাঙ্গা-বেনাপোল মহাসড়কে ট্রাক চালান তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মহাসড়কের নড়াইল অংশের ভাদুলিডাঙ্গা এলাকায় চলন্ত গাড়ি থামিয়ে পৌরসভার টোলের নামে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলতেন প্রভাবশালীরা। প্রতি মাসে মোটা অংকের সেই টাকা তারা ভাগাভাগি করে নিতেন। কোনো চালক চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত চাঁদাবাজরা। বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান করা হয়নি। তবে নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নিয়েই অবৈধ চাঁদা তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে সড়কে চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন অন্তত হাজার দশেক গাড়িচালক।

বাসচালক রিপন জানান, দীর্ঘদিন চাঁদা দিলেও এখন আর দিতে হয় না। এমন পদক্ষেপ নেয়ায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান এ গাড়িচালক। পিকআপচালক আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আগে চাঁদা দেয়ার ফলে আমরা গাড়ি ভাড়াও বেশি নিতাম। চাঁদা বন্ধের পর গাড়ি ভাড়া কিছুটা কমেছে। তাছাড়া সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তোলার সময় যানজটের সৃষ্টি হতো। আর একটু রাত হলে জুলুম করে বেশি টাকা দাবি করা হতো। এখন সব বন্ধ হয়েছে। কোনো ভীতি ছাড়াই সড়কে গাড়ি চালাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মোসা. সাদিরা খাতুন বলেন, ‘মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তোলা অপরাধ। নড়াইলে যোগদানের পর যখনই বিষয়টি আমার কানে আসে তখনই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছি। এ জেলার কোথাও সড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তুলতে দেয়া হবে না।’ 

এদিকে বেশ কয়েকটি মাদকবিরোধী অভিযান হয়েছে সম্প্রতি। মাদকসহ আটক করা হয়েছে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে। ফলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরাও গা ঢাকা দিয়েছে। এছাড়া কয়েক মাসের মধ্যে নড়াইলে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা ও প্রেমিকার বাবার হাতে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুসহ বিক্ষিপ্তভাবে চারটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক থেকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের আলামতসহ আসামিদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

নড়াইলে অপরাধ কর্মকাণ্ড কমে আসার বিষয়ে পুলিশ সুপার সাদিরা খাতুন বলেন, ‘পুলিশের সব সদস্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন বলেই চাঞ্চল্যকরসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের দ্রুত সময়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চুরি হওয়া প্রায় অর্ধশত ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর এরই মধ্যে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’