বায়ুদূষণ, তাপপ্রবাহ ও বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় দেশে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ছে। গতকাল প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে ছয় জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় তিনজন এবং ঝিনাইদহ ও কুড়িগ্রামে চারজন মারা গেছেন। বাকি তিনজন গাইবান্ধা, বগুড়া ও নারায়ণগঞ্জে মারা গেছেন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

কুমিল্লা: হোমনা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তারা সবাই খেয়াপারের জন্য ঘাটে অপেক্ষমাণ ছিলেন।

মৃতরা হলেন উপজেলার নালা দক্ষিণ মধ্যবিত্ত পাড়া গ্রামের মৃত হাজী মতিউর রহমানের মেয়ে মমতাজ বেগম (৩৭) ও জাকিয়া (২৩)। অন্যজন খোদে দাউদ গ্রামের রাহিনুর ইসলামের ছেলে রাশেদ মিয়া (২৩)। হোমনা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঝিনাইদহ: গতকাল সকালে সদর উপজেলার আড়মুখী গ্রামের কৃষক শিমুল বিশ্বাস বাড়ির পাশে নিজ জমিতে কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে বৃষ্টি শুরু হলে অন্যদের সঙ্গে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান শিমুল বিশ্বাস।

অন্যদিকে একই সময় শৈলকুপা উপজেলার শেখরা গ্রামের কৃষক হুরমত শেখ বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন। বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তিনিও বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি নিয়ে গেলে মারা যান হুরমত শেখ।

গাইবান্ধা: সাঘাটায় বজ্রপাতে আব্দুল আজিজ (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বগুড়া: জেলার গাবতলীতে বজ্রপাতে শেফালি বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে শেফালি বেগম বাড়ির পাশে ইছামতী নদীর তীরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের উলুকান্দি গ্রামে বজ্রপাতে ওয়াসিম (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কুড়িগ্রাম: নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে গতকাল সকালে বাড়ি ফিরছিল বাবলু মিয়া। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। একই উপজেলার বামনডাঙা ইউনিয়নের চর লুচনি গ্রামে বজ্রপাতে সহিবর নামে আরো একজনের মৃত্যু হয়।