বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফল হিসেবে পরিচিত কাঁঠাল উৎপাদনের দিক থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। কাঁঠাল উৎপাদনে দেশের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন পাহাড়ি জেলার জৌলুস পুরনো। পাহাড়ে কাঁঠালের উৎপাদনও ক্রমবর্ধমান। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঢালু পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফলের সঙ্গে রয়েছে কাঁঠাল বাগান। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে কাঁঠাল উৎপাদন শীর্ষে রয়েছে বান্দরবান। এরপর রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার অবস্থান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিগত পাঁচ বছরের আবাদ ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে কাঁঠালের আবাদ ভূমি কমলেও উৎপাদন বেড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) বান্দরবান কার্যালয়ের উপপরিচালক এমএম শাহ নেওয়াজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বান্দরবান জেলার সব উপজেলায়ই কম-বেশি কাঁঠাল আবাদ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বাজারে কাঁঠাল আসা শুরু হয়েছে। তবে পুরো জেলার মধ্যে রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি উপজেলায় কাঁঠাল উৎপাদন বেশি হয়। লামা ও আলীকদমে তুলনামূলক কম উৎপাদন হয়। এ দুটি অঞ্চলে সমতল ভূমি বেশি থাকায় অন্যান্য ফসলের চাষ হয়, সেজন্য কাঁঠাল উৎপাদন কিছুটা কম হয়।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ মৌসুমে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ৯ হাজার ৪৪২ হেক্টর বাগানে কাঁঠালের ফলন হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৯৫ টন। ২০২০-২১ মৌসুমে ৯ হাজার ৪০৯ হেক্টরের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ টন। ২০২১-২২ মৌসুমে ৯ হাজার ১৬০ হেক্টরের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৬৫৯ টন। ২০২২-২৩ মৌসুমে ৮ হাজার ৪৪২ হেক্টরের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৯ টন। সবশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৮ হাজার ৩৮৭ হেক্টরের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭০ টন। চলতি মৌসুমে এখনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেনি কৃষি বিভাগ। তবে তাদের প্রত্যাশা, এবারো কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে।

ডিএই রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলার সব উপজেলায়ই কাঁঠালের আবাদ হয়। তবে সদর, নানিয়ারচর, কাপ্তাই ও কাউখালীতে কিছুটা বেশি। এখন মূলত আগাম কাঁঠাল বাজারে আসতে শুরু হয়েছে। মৌসুমি কাঁঠাল আসতে আরেকটু সময় লাগবে। সেগুলো এখনো পরিপক্ব হয়নি। কাঁঠালসহ অন্যান্য মৌসুমি ফল বিপণনের ক্ষেত্রে এখনো কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা পরিলক্ষিত হয়নি। সামনের সময়টাতে বোঝা যাবে কৃষক কেমন দাম পাচ্ছেন।’

চাষীরা জানান, মূলত বছরের এপ্রিল অর্থাৎ গ্রীষ্মের শুরু থেকেই পার্বত্যাঞ্চলের হাটবাজারগুলোয় পাকা কাঁঠাল আসতে শুরু করে। সাপ্তাহিক হাটবার ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বাজারে কাঁঠাল আনেন স্থানীয় চাষীরা। এরপর এসব কাঁঠাল বাজার থেকে পাইকারি দরে কিনে নিয়ে যান ঢাকা-চট্টগ্রামের ক্রেতারা। পরে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার মাটি কাঁঠাল আবাদের উপযোগী। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলার ঢালু পাহাড়ে সব ধরনের ফসল উৎপাদন করা যায়। ঢালু পাহাড়ে কাঁঠাল চাষ সহজলভ্য। এ কারণে অন্যান্য ফল থেকে কাঁঠাল আবাদ সহজ ও খরচের দিক থেকেও সাশ্রয়ী।

ডিএই রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসিম হায়দার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কৃষক এখন আগে থেকে অনেক সচেতন। কীভাবে চাষাবাদ ও পরিচর্যা করতে হয়, সেগুলো এখন তারা ভালোভাবে শিখে গেছেন। বান্দরবানে ক্রমাগত কাঁঠাল বাগান ও ফলন বাড়ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণত দুই ধরনের কাঁঠাল চাষ হচ্ছে। একটি হলো গালা; আরেকটি খাঁজা। তবে আসামি নামে আরেকটি প্রজাতি রয়েছে। সেটি আষাঢ়-শ্রাবণে বাজারে আসে।’