কভিড-১৯ টিকা সংকটের কারণে চট্টগ্রামে মডার্না ও সিনোফার্মের প্রথম ডোজের টিকা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় পূর্বনির্দেশনা ছাড়াই হঠাৎ প্রথম ডোজ বন্ধ করে দেয়ায় চট্টগ্রামের ১০ লাখ নিবন্ধনকারী পড়েছেন বিপাকে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকার চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মানুষের আবেদনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। যার কারণে বাধ্য হয়ে টিকা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে যারা সুরক্ষা অ্যাপসে নিবন্ধন করেছেন তাদের পর্যায়ক্রমে টিকা দেয়া হবে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ২৩ লাখ ৯০ হাজার ৭৫৪ জন নিবন্ধন করেছেন। চলতি সপ্তাহের প্রথম চারদিনেই নিবন্ধন করেছেন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ। যার মধ্যে সোমবার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮১ ও মঙ্গলবার ২ লাখ ৯ হাজার ৫০৩ জন নিবন্ধন করেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বণিক বার্তাকে জানান, যারা সুরক্ষা অ্যাপসে নিবন্ধন করেছেন তাদের সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। তবে কিছুটা সময় লাগবে। সবাই যাতে টিকা নিতে পারেন সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নিবন্ধনকারীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবমতে, চট্টগ্রামে প্রায় ২৪ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। যাদের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজ দেয়া সম্ভব হয়েছে।
এদিকে টিকা কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধের ঘোষণায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন শতাধিক মানুষ। তাদের দাবি, কোনো নির্দেশনা না দিয়েই হুট করেই বন্ধ করে দিয়েছে টিকা কার্যক্রম। এছাড়া টিকা বন্ধের ব্যাপারে কোনো প্রচারণাও ছিল না বলে অভিযোগ টিকাগ্রহীতাদের।
নিবন্ধনকারীরা জানান, অনেকে জুলাইয়ের শুরুর দিকে আবেদন করেছেন। কিন্তু এসএমএস না আসায় অনেকে টিকা নিতে পারেননি। এখন আবার টিকাদানই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কবে আবার টিকা দেয়া হবে তাও জানেন না তারা।
চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, মডার্নার টিকার মজুদ শেষ হওয়ায় আপাত টিকা কার্যক্রম বন্ধ। অবশ্য অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ চলবে। সরকারের টিকা পাওয়া সাপেক্ষ মহানগরীতে টিকা কার্যক্রম চালু হবে। টিকার চালান এসে পৌঁছালে আমরা জানিয়ে দেব।










