দিনাজপুরের বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আইন অমান্য করে কৃষিজমিতে চলছে অবাধে পুকুর খনন। এতে কৃষিজমির শ্রেণী পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। উর্বরতা ও উৎপাদন সক্ষমতা হারাচ্ছে জমিগুলো। পুকুর খনন অব্যাহত থাকলে খাদ্য উৎপাদনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না।

বিরামপুর উপজেলা সদরের বেলডাঙ্গা গ্রাম। এ গ্রামে সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কের পাশেই কোনো সরকারি অনুমতি না নিয়েই কৃষিজমিতে চলছে পুকুর খনন। খননকৃত মাটি পরিবহনের কারণে সড়কটি ভেঙে নষ্ট হচ্ছে। এখানে চারটি কৃষিজমি কেটে পুকুর খননের কাজ চলছে। একই ভাবে বিরামপুর অংশের আশুরার বিলে কৃষিজমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট, ডাঙ্গাপাড়া, গোহরাসহ বিভিন্ন এলাকারও একই চিত্র।

স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম ও লুত্ফর রহমান বলেন, আমাদের জমিতে ধান, ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষিজমির পাশেই পুকুর খননের ফলে আমাদের জমিতে সেচ দেয়ার মতো পানি থাকবে না। এতে করে বাড়তি খরচ হবে। এছাড়া জমির মাটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পুকুর খননে বাধা দিতে গেলে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়া হয়। আর প্রশাসনও খননকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।

পুকুর খননকারী বাল্লা মুর্মু ও জন মুর্মু বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেও এখানে কোনো ধরনের আবাদ করতে পারিনি। এর মধ্যে আবার এ জমিগুলোতে পানি থাকে না। এছাড়া গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ফসলের অনেক ক্ষতি করে। এজন্য আমরা চিন্তা করেছি যে, এখানে একটা পুকুর খনন করে মাছ চাষ করব। তবে পুকুর খনন করতে প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হয় বলে জানতাম না। পুকুর খননের কারণে কোনো সমস্যা হলে আমরা সেটি দেখব।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে আগে তথ্য দেন কোথায় কোথায় পুকুর খনন করা হচ্ছে, আমি আগে দেখি। দেখার আগে তো কোনো বক্তব্য দিতে পারব না।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, কৃষিজমিকে পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে, এমন দু-একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।