চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ, ভোটের আগে ও পরে নিরাপত্তা, উত্তরবঙ্গ থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী এবং সংসদে সংরক্ষিত আসন রাখার দাবি জানিয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠী। গতকাল দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান আদিবাসী নেতারা।

উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত কুমার টুডু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকারকে আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীবিরোধী সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্র তথা পুলিশ প্রশাসনকে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ উত্তরবঙ্গ থেকে একজন আদিবাসী টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও সংরক্ষিত আসনে সংসদে প্রতিনিধি রাখতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে অঙ্গীকার করতে হবে, যেসব রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তাদের মনোনয়ন দেবে না, দলের কোনো পদেও তাদের স্থান দেয়া চলবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী নেতারা বলেন, ‘আদিবাসী ও সংখ্যালঘুরা যদি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয় তাহলে এর দায় কী নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী অস্বীকার করতে পারবে? দেশের নাগরিক হিসেবে অন্যান্য নাগরিকের মতোই প্রতিটি নাগরিক তার স্বাধীনতা ভোগ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে অন্যের স্বাধীনতা খর্ব করা, পরের ধন-সম্পদে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করা কী দেশকে সংখ্যালঘু কিংবা আদিবাসীশূন্য করার ষড়যন্ত্র নয়?

তারা আরো বলেন, উত্তরবঙ্গে ৩২টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৫-৩০ লাখ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, দাবিদাওয়া ও চাহিদার কথা বলার মতো কেউ নেই। 

ফলে উত্তরবঙ্গের আদিবাসীরা শিক্ষা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এখনো অনেক পিছিয়ে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের ঘোষণা করেছে। অথচ এ অঞ্চলের অধিকাংশ আদিবাসী ডিজিটালের সঙ্গে পরিচিত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি সভাপতি হিংগু মুরমু, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, সংগঠনের জেলা শাখার সম্পাদক কর্নেলিউশ মুরমু, আদিবাসী নেতা মদন হাঁসদা, বিশ্বনাথ মাহাতো, যতীন হেমব্রম, রুমালী হাসদা ও কুটিলা রাজোয়াড়।