গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করে। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়। তবে মেডিকেল ভিসা ছাড়া বাংলাদেশী নাগরিকদের অন্য ক্যাটাগরির ভিসা বন্ধ রেখেছে ভারত। এ অবস্থায় দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে কমেছে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার। মেডিকেল ও স্টুডেন্ট ভিসায় সীমিতসংখ্যক যাত্রী পারাপার হলেও ভিসা না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীসহ ভ্রমণপিপাসুরা। এতে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আহরণও কমেছে। তবে ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা চালু হলে আবারো এ পথ দিয়ে যাত্রী পারাপার বাড়বে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

সড়ক ও রেলপথে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এবং সহজেই কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো যায়। এজন্য উত্তরাঞ্চলের মানুষ ভারতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ব্যবহার করে। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন এ পথ দিয়ে গড়ে ৭০০-৮০০ পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করতেন। ভিসা না পাওয়ায় অনেকে যেমন ভারতে যেতে পারছেন না। এতে যাত্রী পারাপার কমে বর্তমানে ১০০-১৫০ জনে নেমেছে।

বাংলাদেশী নাগরিক আফজাল হোসেন বলেন, ‘ভারত ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে আগে আমরা অনেকেই চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতাম, সেটিও এখন সম্ভব হচ্ছে না। অল্প কিছুদিন হলো মেডিকেল ভিসা দিচ্ছে, তবে সীমিত পরিসরে। ভিসা পেতে যত নিয়ম-কানুন, সেগুলো পূরণ করতেই অবস্থা খারাপ। তারপরও ভিসা পাচ্ছি না।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভিসা বন্ধ থাকায় এর প্রভার পড়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে। বর্তমানে ফোনে কথা বলে পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু ভারতীয় রফতানিকারকরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য রফতানি করছেন না। ভালো মানের পণ্য দিচ্ছেন না।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক নূর ইসলাম বলেন, ‘ভিসা না পাওয়ায় আমদানিকারকদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আমদানিকারকদের ভারতে গিয়ে পণ্য দেখে কিনতে হয়। তারপর সেগুলো আমদানি করতে হয়। ভিসা না থাকায় পণ্য কিনতে পারছি না।’

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের তথ্য বলছে, গত বছরের আগস্ট থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৭০ হাজার ৩৪৬ যাত্রী হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পারাপার হয়েছে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মাঝে ৭০০-৮০০ পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করত। ৫ আগস্টের পর ভিসা বন্ধ করে দেয়ায় যাত্রী সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ১০০-১৫০ যাত্রী যাতায়াত করছেন। মূলত ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় যাত্রী পারাপারের সংখ্যা কমে গেছে। ট্যুরিস্ট ভিসা চালুসহ অন্যান্য ভিসা দেয়ার হার বাড়ানো হলে যাত্রীর সংখ্যা আগের মতো বাড়বে।’