কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পারায় এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে টানেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে মোট নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় ১৬ শতাংশ অর্থাৎ ভ্যাট-ট্যাক্স-সিডি ভ্যাট বাবদ ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পাচ্ছে সরকার।  
চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি একনেকে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী পাস হয়। নতুন মেয়াদে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ দ্বিতীয় সংশোধনীতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৩১৫ কোটি ২৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করবে ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং চায়না এক্সিম ব্যাংক ব্যয় করবে ৬ হাজার ৭০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। 
চীনের ঋণ ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার টানেল নির্মাণে ৪৩ দশমিক ২২ শতাংশ ব্যয় করছে। এর মধ্যে ট্যাক্স/ভ্যাট (নির্মাণ ব্যয়ের ১৩ শতাংশ) হিসাবে সরকারি খাতে রাজস্ব আসবে ৯৯৮ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া সিডি ভ্যাট বাবদ সরকার পাবে আরো ৬৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সরকারি কোষাগারে প্রকল্প ব্যয় থেকে জমা হচ্ছে ১ হাজার ৬৪৮ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ট্যাক্স-ভ্যাটের পরিমাণ টানেল নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় ও চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যয়। বর্তমানে প্রকল্পটির স্ক্যানার বসানোর কাজ চলমান। স্ক্যানার বসাতে ব্যয় করতে হচ্ছে ৬৫ কোটি ১ লাখ টাকা। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টানেল প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক একে আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ৯৬ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্মাণ ছাড়াও আনুষঙ্গিক কিছু কাজ চলমান। চলতি বছরের শুরুতে প্রকল্পটি দ্বিতীয় সংশোধনীতে যে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে সেটি মূলত টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে। তাছাড়া ব্যয় যা-ই হোক না কেন সরকার নির্দিষ্ট হারেই ভ্যাট-ট্যাক্স পেয়ে যাচ্ছে। এতে মেগা প্রকল্পের দৃশ্যমান ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।’ 
দ্বিতীয় সংশোধনী অনুযায়ী, চারটি ধাপে প্রকল্পের ব্যয় ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব ব্যয় ও মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৮৯ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এছাড়া মূলধন ব্যয়ের (সম্পদ সংগ্রহ, কম্পিউটার অ্যাকসেসরিজ ভূমি অধিগ্রহণ-ক্রয় ও ভৌত কাজ) ৯ হাজার ১৪১ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ফিজিক্যাল কনটিনজেন্সি খাতে (শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ) ৫২ কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার এবং প্রাইস কনটিনজেন্সি খাতে (১ শতাংশ) ১০৫ কোটি ৩১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হবে। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছিল সেতু কর্তৃপক্ষ।
প্রথম সংশোধনীতে টানেল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রথম সংশোধীতে ব্যয় বাড়িয়ে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ও মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পের সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে টানেল নির্মাণ খাতে। এ খাতে ব্যয় হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫২ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন খাতে, দেড় হাজার কোটি টাকা। যার পুরোটাই ব্যয় হচ্ছে প্রকল্প সহায়তায়। 
গত ২ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা বিভাগ থেকে টানেল নির্মাণ প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেয় পরিকল্পনা বিভাগের এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগের উপপ্রধান (উপসচিব) নিশাত জাহান। সেতু বিভাগের সচিবকে দেয়া ওই চিঠিতে একনেক সভার ৯.২(২) অনুচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রকল্পটি উদ্বোধনের জন্য এরই মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পেলেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল নির্মাণ প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।