দিনাজপুরের হিলিতে উপজেলাবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে সরকারিভাবে বসানো অধিকাংশ টিউবয়েল দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে করে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন ওইসব এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, টিউবয়েলগুলো মেরামতের জন্য কতৃপক্ষকে বারবার বলেও কোনো লাভ হয়নি।

স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির জন্য হিলি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন একটি মক্তবের সামনে টিউবয়েল স্থাপন করেছিল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে কিছুদিনের মধ্যেই সেখানকার টিউবওয়েলটি উধাও হয়ে যায়। একইভাবে হিলি বাজারে বিএনপি অফিসের পাশেও বসানো হয়েছিল একটি টিউবওয়েল। দীর্ঘদিন ধরে সেই টিউবওয়েলটিরও হাতল নেই। উপজেলার তিন ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় একইভাবে স্থাপিত ৭৮টি টিউবয়েলের অধিকাংশের অবস্থাই এমন। অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে টিউবয়েলগুলো স্থাপনের কিছুদিন পর্যন্ত পানি পাওয়া গেলেও এখন অধিকাংশই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অনেক টিউবয়েলের বডি আছে, কিন্তু হাতল নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সবকিছু ঠিক থাকলেও পানি ওঠে না। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে পানির কষ্টে রয়েছেন ওইসব এলাকার মানুষ।

হিলির তারকাটা এলাকার বাসিন্দা খোদেজা বেওয়া বলেন, ‘এখানে একটা টিউবয়েল ছিল। আমরা এখান থেকে পানি নিয়ে পান করা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতাম। এসব কলের পানি দিয়ে আমরা গোসল থেকে শুরু করে কাপর ধোয়ার কাজও করতাম। তবে হঠাৎ টিউবওয়েলটা চুরি হয়ে যায়। এর ফলে আমাদের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

একই গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, ‘টিউবওয়েলটা চুরি হওয়ার পর আমরা অনেককেই জানিয়েছি। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি।’

হাকিমপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘নলকূপ নষ্ট বা চুরি হয়ে গেলে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেব।’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যেসব টিউবওয়েল বসিয়েছি, সেগুলো চুরি রোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে যারা এগুলো ব্যবহার করেন, এক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব বেশি। এসব টিউবওয়েল মূলত কমিউনিটি লেভেল থেকে মেরামত করার কথা। তারপরও আমাদের জানালে আমরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে মেরামতের ব্যবস্থা করব।’