ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক যেন ভোগান্তির অন্য নাম। এ মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ড থেকে গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুলে উঁচু হয়ে গেছে। এক বছরেও সড়কে সৃষ্ট এসব ঢিবি অপসারণ করা হয়নি। এতে সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই রাতে বড় বড় ঢিবিতে ছোট যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ড থেকে গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন ও পাথর স্তূপাকৃতি ধারণ করেছে। উঁচু হয়ে যাওয়া এ জায়গাগুলোয় চাকা উঠে নিয়ন্ত্রণ হারায় যানবাহন। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। বেহাল সড়কে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে বিকল হয়ে যায় চলাচলকারী যানবাহনগুলো।
সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, যথাযথ নিয়ম মেনে এ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে ভারী যানবাহন চলায় সড়কটি দেবে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে উঁচু হয়ে ঢিবির মতো হয়ে গেছে। সড়কের এমন দশা দেখেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তাদের উদাসীনতার কারণে মহাসড়কটি যানবাহন চালকদের কাছে বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শিগগিরই সড়কের এ অংশ থেকে ঢিবিগুলো অপসারণ করে যথাযথভাবে সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তারা।
এ রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী মোটরসাইকেল চালক এইচএম লিজন বলেন, মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকালে
ছোট যানবাহনগুলোকে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।
মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী একাধিক ট্রাকচালক বলেন, অন্য গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকের চাকা ঢিবিতে উঠে গেলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। মহাসড়ক থেকে দ্রুত এসব ঢিবিসদৃশ উঁচু স্থান অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে বার্থী পর্যন্ত সড়কের উঁচু স্থানগুলো অপসারণ করা হয়েছে। শিগগিরই বাকিগুলো অপসারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক: জেগে উঠেছে উঁচু স্থান, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা’ শিরোনামে বণিক বার্তায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এ সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকটি স্থান থেকে উঁচু ঢিবি সরানো হলেও জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ড থেকে গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এলাকার ঢিবি এখনো সরানো হয়নি।










