গোপালগঞ্জে হামলা-সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জারি করা কারফিউ শিথিলের পর ১৪৪ ধারাও বলবৎ না থাকার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আজ (রোববার) রাত ৮টার পর গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা ও কারফিউ বলবৎ থাকবে না। সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনাপূর্বক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া অপরাধীদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে শনিবার রাতে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কারফিউ শিথিল করে গতকাল সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল।

এদিকে গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি ঘিরে হামলা-সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ চারটি হত্যা মামলা করেছে। শনিবার রাতে সদর থানার চারজন এসআই বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। চারটি মামলায় কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা মোট ৫ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জে সংঘাত-সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন গোপালগঞ্জ পৌরসভার উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫), টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সোহেল রানা মোল্লা (৩৫), কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের হরিণাহাটি গ্রামের রমজান কাজী (১৮), ভেড়ার বাজার ব্যাপারীপাড়া এলাকার ইমন তালুকদার (১৮) ও থানাপাড়া এলাকার রমজান মুন্সী (৩৫)। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে।

এর আগে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে সদর, কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া থানায় মোট চারটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২ হাজার ৬৫০ জনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় গত বুধবার থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩২১ জনকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।