সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত প্রতিশ্রুতিকে সমর্থন করার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা বিশ্বাস করি। পাশাপাশি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন মানে শুধু নির্বাচনের দিন কেমন ভোট হলো তা নয়, বরং নির্বাচনের আগে এ সময়ে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও অন্য সব পক্ষের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবাধে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে গতকাল কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ কর্মীদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে তিনি সেখানকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এদিন সকালে তার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যায়। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার দিনব্যাপী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও জাতিসংঘ পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার কুতুপালং ৪ নং ক্যাম্পে পৌঁছে রোহিঙ্গাদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম দেখেন।

এরপর আফরিন আক্তার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত রোহিঙ্গা উইমেন সেন্টার, লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ সেন্টার ও জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পরিচালিত ই-ভাউচার সেন্টার পরিদর্শন করেন। দুপুরে ১১ নং ক্যাম্পে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে ক্যাম্প ত্যাগ করেন।

বিকালে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ে বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থীবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিনিধি দলটি বৈঠক করে। ওই বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। 

আফরিন আক্তার বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আমাদের যে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্ব ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ বিস্তৃত বহুমুখী সম্পর্কসহ অন্যান্য বিষয় রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেছি।’

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ছোট জনবহুল দেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে জায়গা দিয়ে বাংলাদেশ সরকার যে উদারতা দেখিয়েছে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় ডোনার হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে আছে। দেশটি ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২ দশমিক ২ বিলিয়নের বেশি ডলার দিয়েছে।’

বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ‘স্বেচ্ছায় নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক এ ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। 

তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও স্থায়ী সমাধানও চায়। কিন্তু মিয়ানমারে এখনো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। মিয়ানমার সরকার সেখানে কোনো মানবাধিকার গ্রুপকে প্রবেশ করতে দেয় না। সেজন্য এখনই সঠিক সময় নয় বলে আমরা মনে করি। কিন্তু একটি টেকসই সমাধানের জন্য আমরা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাব।’