খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর হয়ে ভারত থেকে সড়ক পথে পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রামগড় স্থলবন্দরের অবকাঠামোসহ যাবতীয় কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। শিগগিরই বন্দরটি উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারণ হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরত্বে রামগড় স্থলবন্দরটি ব্যবহার করে মাত্র ৩ ঘণ্টায় পণ্য যাবে ভারতে। এতে দুই দেশের আন্তঃবাণিজ্যে গতি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরিচালক ও ক্লিফটন গ্রুপের সিইও মহিউদ্দিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্যবসায়িক ও ভৌগোলিক কারণে এটি ইতিবাচক দিক। সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যের জন্য এটি দরকার। বাণিজ্য বাড়বে, ব্যবসা বাড়বে। ওই এলাকাগুলো পর্যটনের আওতায় আসবে। কারণ কানেক্টিভিটি পেলে এখান থেকে পণ্য যাবে, ওখান (ভারত) থেকে আসবে। তবে আমরা যারা পণ্য দিচ্ছি আমাদের জন্য বেনিফিট বেশি দিতে হবে।’
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) মাধ্যমে প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুনে সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ভারত সরকারের এলওসি-৩ এবং বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল দিল্লিতে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৫১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৫৯৪ কোটি ৭ লাখ টাকা ঋণ দেবে ভারত সরকার। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৪৯ দশমিক ২০ মিটারের নয়টি সেতু ও ১০৮ মিটারের ২৩টি কালভার্ট এবং ৩৮ ফুট প্রস্থের ৩৮ কিলোমিটার সড়ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরত্বে রামগড় স্থলবন্দরটি ব্যবহার করে মাত্র ৩ ঘণ্টায় পণ্য যাবে ভারতে।
এর আগে অন্য একটি প্রকল্পে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কে ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার অর্থায়নে রামগড় থেকে বারইয়ারহাট পর্যন্ত ১৬টি সেতু ও কালভার্টের কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসিএল। সেতু ছাড়াও সেতুর পাশে ২০০-৩০০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে তারা।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপক জুলফিকার আহম্মদ জানান, সিপিসিএলের পাওয়া ১৬টি সেতু, কালভার্ট ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে চলতি বছরের এপ্রিলে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ মে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। চলতি বছরের জুনে সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টি থাকায় কাজের অগ্রগতি তেমন নেই। দেড় বছর মেয়াদের এ প্রকল্পে কাজ শেষ হবে আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বরে। সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে ঢাকা থেকে রামগড়ের যোগাযোগ আরো সহজ হবে। এছাড়া রামগড় স্থলবন্দর ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে পণ্য যাবে ভারতে। গতি পাবে আমদানি-রফতনি বাণিজ্য। মিরসরাই-সোনাগাজী ও সীতাকুণ্ডে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে উৎপাদিত পণ্য সহজে ভারতে রফতানি করা যাবে। সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ পেয়েছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অশোকা বিল্ডকন লিমিটেড। রামগড়ের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনে এরই মধ্যে মিরসরাই, ফটিকছড়িসহ উত্তর চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থাপনায় এসেছে উন্নয়ন। এছাড়া মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সরজমিন মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট ও করেরহাট অংশে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণে পাশে থাকা গাছ ও স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সড়ক ও জনপথের জায়গা থেকে যারা এখনো স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি তাদের দ্রুত সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে পাহাড়ি জনপথ হওয়ায় দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি বছর জুনে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টি থাকায় কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। সেতু নির্মাণের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে।’










