মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হোকন আরল্ড গুলব্রান্ডসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা অর্জন, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শিশু অধিকার সুরক্ষা ও শিশুশ্রম নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
এছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন ও তৈরি পোশাক খাত নিয়েও কথা বলেন তারা। কেয়ার গিভিং, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, কার্বন ট্রেডিং, উত্তরাধিকার আইন এবং ডিএনএ পরীক্ষাগার কার্যক্রম আধুনিকীকরণের মতো দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় মন্ত্রী নরওয়েকে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে নরওয়ে সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার নারী ও শিশুসহ সবাইকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তৃণমূল নারীদের দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, প্রাথমিক মূলধন প্রদান ও কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ুগত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ওই অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান।
ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীদের নামে এই কার্ড প্রদান করছেন। এতে প্রতি পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি করে কার্ড দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রী এই কার্ডকে খরচ না বলে একটি কার্যকর সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কার্ডের অর্থ দিয়ে নারীরা পুষ্টিকর খাদ্য, নিত্যপণ্য ক্রয়, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পারবেন।
বিশ্বজুড়ে দক্ষ সেবা প্রদানকারীর চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দক্ষ কর্মী তৈরি ও তাদের বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে নরওয়ের সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে তিনি গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ইউরোপের বাজারে রফতানিতে সহায়তা আশা করেন।
সাক্ষাতের একপর্যায়ে মন্ত্রী ডিএনএ পরীক্ষাগার আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহযোগিতা চান। এতে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।










