অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নতুন নতুন বাড়ি-ঘর, অফিস-আদালত, শিল্প-কলকারখানা নির্মাণ ও ইটভাটা স্থাপনের কারণে সাতক্ষীরায় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষিজমি। এছাড়া জেলার কৃষিজমিতে লবণ পানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষের কারণে কৃষি প্রাণ বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ৩৮ দশমিক ১৩ ভাগ কৃষিজমি মাছ চাষের আওতাভুক্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধকবলিত হয়ে পড়েছে মোট কৃষিজমির ১১ দশমিক ৫৪ ভাগ। এসব কারণে কমছে কৃষিজমি ও কৃষিভিত্তিক খানার সংখ্যা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উজানের পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়া ও অপরিকল্পিতভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প, যা কৃষিজমি কমে যাওয়ার বিষয়টিকে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে উন্নীত করেছে। সেই সঙ্গে সরকার কৃষিজমি রক্ষায় নানা অঙ্গীকার করে নিজেই কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছে।
গতকাল সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভা ঘরে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক আয়োজিত ‘কৃষিজমি সুরক্ষায় জনসংগ্রাম’ শীর্ষক জনমতামত সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলালের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ।
বক্তব্য দেন স্থানীয় দৈনিক দক্ষিণের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সনাক-সাতক্ষীরার সভাপতি হেনরী সরদার, সিনিয়র সাংবাদিক মিজানুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, জেলা গণফোরামের সভাপতি আলী নূর খান বাবুল, জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি আল মাহমুদ পলাশ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কৃষিজমি রক্ষায় সাতক্ষীরায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলন সংগ্রাম করে তাৎক্ষণিক কিছুটা সফলতা পেলেও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অভাবে কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসন কখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে সাতক্ষীরা জেলার হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে লবণ পানি ঢুকিয়ে সর্বনাশ করা হয়েছে, যা পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।










