ঢাকার সাভারে পৃথক চার স্থান থেকে প্রায় ৩০ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারীদের মধ্যে দুজন পোশাক শ্রমিক ও একজন গৃহবধূ। চারটি ঘটনার মধ্যে এক ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় হাজী খালেকের বাসা থেকে আখি আক্তার (২৪) নামে এক পোশাক শ্রমিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহের জেরে স্বামী জাহিদ হাসানের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে আখি নিহত হন। এ ঘটনায় জাহিদকে আটক করা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল হাই জানান, বাসার খাটের ওপর থেকে আখির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় নিজেদের পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে রোকসানা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দুবাইপ্রবাসী মকবুল হোসেনের স্ত্রী।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আমিন জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাদে পানির ট্যাংকিতে পানি যাচ্ছে কিনা দেখতে যান রোকসানা। দেড় ঘণ্টা পরও তিনি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। পরে ছাদে বালু ও সিমেন্টের খালি বস্তা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি জানান, রোকসানার মাথার বাম পাশে কানের নিচে ধারালো অস্ত্রের ছয়টি আঘাতের চিহ্ন এবং পিঠে একটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধর্ষণের চেষ্টা, আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মামলা করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে বুধবার দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তরিকুল (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, প্লাস্টিকের রশি গলায় পেঁচানো অবস্থায় তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক জানান, তরিকুল মোবাইলে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি প্রায় ২ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হন বলে তার স্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট ডিউটিতে কাজ করতেন। বুধবার গভীর রাতে বাসায় ফেরার পর সকালে তার স্ত্রী দরজায় তালা দিয়ে কর্মস্থলে যান। দুপুরে ফিরে তরিকুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আশুলিয়ার কবিরপুরের বাইদগাঁও বলারটেক এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে তানিয়া খাতুন (২৫) নামে এক পোশাক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারখানা থেকে বাসায় ফেরেন তানিয়া। পরে তার ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর তার মরদেহ দেখতে পান।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তানিয়ার গলার দুই পাশে কালচে দাগ এবং গলার নিচে লালচে দাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা সাতক্ষীরা থেকে আসার পর মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।