প্রধান প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। সাগর ও নদ-নদীতে চলা নিষেধাজ্ঞা শেষ হয় ২৬ অক্টোবর মধ্যরােত থেকে। ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠা নির্বিঘ্ন করতেই এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এক মাসের বেশি সময় আগে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে প্রত্যাশিত ইলিশ ধরা পড়ছে না জেলেদের জালে। তবে যা ধরা পড়ছে তার ৯০ শতাংশই ছোট ইলিশ। বড় ইলিশের দেখা মিলছে একেবারেই কম।

মৎস্য গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির তাপমাত্রার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রাণিজগতের জৈবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাপমাত্রার কারণে মাছের আকারে পরিবর্তন আসে। পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে মাছের এ পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে ইলিশ আকারে ছোট হলেও পরিপূর্ণতা রয়েছে।

চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশই ছোট আকারের ইলিশ। ২০০ থেকে শুরু করে ৪০০-৫০০ গ্রামের ইলিশের সংখ্যাই বেশি।

মৎস্যজীবীরা বলছেন, পদ্মা ও মেঘনা নদীতে বড় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। ছোট ইলিশ বেশি ধরা পড়ছে। ছোট মাছ বেশি ধরা পড়ার কারণে বড় ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বাড়ছে।

মৎস্যজীবী মোবারক হোসেন বলেন, ‘বড় মাছ দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা ধরে ফেলে। তাই আমাদের এখানে বড় মাছ পাওয়া যায় না। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাছের আকার ছোট হয়ে গেছে।’

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ বন্দুকসী বলেন, ‘আগে ছোট ও বড় ইলিশ সমানভাবে পাওয়া যেত। আহরণ করা মাছের ৫০ শতাংশ ছোট এবং ৫০ শতাংশ ছিল বড়। এখন বড় ইলিশ ১০ শতাংশ পাওয়া যায়। ৯০ শতাংশই ছোট ইলিশ পাওয়া যায়। ১০০ মণ ইলিশের মধ্যে ১০ মণ পাওয়া যায় বড় আকারের মাছ।’

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু কাওসার দিদার বলেন, ‘পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে মাছের মধ্যেও এক ধরনের পরিবর্তন আসে। কিছু মাছ অল্প সময়ে পরিপূর্ণ হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটা হয়ে থাকে। তাছাড়া নদীর পানি দূষণ ও স্রোতের গতি পরিবর্তনের কারণেও মাছের আকারে পরিবর্তন আসে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, ১০-২৫ সেন্টিমিটার ইলিশ জাটকা হিসেবে ধরা হয়। এই জাটকা একসময় বড় হয়ে পরিপূর্ণ ইলিশে রূপান্তরিত হয়। তবে অবৈধ কারেন্ট জাল বা ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহারের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ছে। এছাড়া নদীতে পানির পরিমাণ কমে যাওয়া ও জাটকা নিধনের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আজকের জাটকা আগামী দিনের বড় ইলিশ। ছোট ইলিশকে আমরা বড় হওয়ার সুযোগ দিচ্ছি না। এক্ষেত্রে ইলিশ সংরক্ষণ আইন প্রয়োগ জরুরি বলে আমি মনে করি। ইলিশ সুষম অবস্থা থেকে সরে আসছে। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর পানি দূষণ, অক্সিজেন সংকট, গতিপথ পরিবর্তন, জাটকা নিধন অন্যতম কারণ।’