পারিবারিক কলহের জেরে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দুই সন্তান নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে করলাটারি ঘুন্টিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পাটগ্রাম উপজেলার রহমানপুর চিলারবাজার এলাকার রাজমিস্ত্রি রাশেদুজ্জামানের স্ত্রী সুমী আক্তার (২৬), মেয়ে
তাসমিরা তাবাসসুম তাসিন (৫) ও ছেলে রাসিন (২)। নিহত সুমীর বাবার বাড়ি পাশের হাতীবান্ধা উপজেলায়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত সুমীর স্বামী রাশেদুজ্জামানকে আটক করেছে। পুলিশের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন, গতকাল সকালে তার মা রাশেদা বেগমের সঙ্গে স্ত্রী সুমির ঝগড়া হয়েছিল।
পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী কর্মীরা মা সুমী আক্তার ও তার মেয়ে তাসিনের মরদেহ এবং কোল থেকে ছিটকে পড়া দুই বছরের ছেলে রাসিনকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিকাল ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পাটগ্রাম ও বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশনমাস্টার নূর আলম জানান, বুড়িমারী কমিউটার আপ ৬৫ ট্রেনটি বুড়িমারী রেলস্টেশনে প্রবেশের আউটার সিগন্যাল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পাটগ্রাম সাইডে ৫৩১/৮ নম্বর কিলোমিটার এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মা-মেয়ে নিহত হয়। ওই নারীর দুই বছরের একটি শিশুসন্তান জীবিত উদ্ধার করা হলেও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
বুড়িমারী কমিউটার ট্রেনের পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকভাবেই ট্রেনটি চলছিল। হঠাৎ বুড়িমারী স্টেশনে প্রবেশের আগে চলন্ত ট্রেনের নিচে এক নারী দুই সন্তানকে নিয়ে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই ওই নারী ও তার মেয়ে নিহত হয়। অলৌকিকভাবে এক শিশুসন্তান বেঁচে গেলেও বিকালে তার মৃত্যু।’
পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন, ‘যেহেতু ঘটনাটি রেল লাইনের ওপর ঘটেছে এজন্য লালমনিরহাট জিআরপি থানার ওসি ফেরদৌস আলীর নিকট ঘটনার যাবতীয় বিষয় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে জিআরপি থানায়।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছ থেকে সব আলামত সংগ্রহ শেষে লালমনিরহাট জিআরপি থানার ওসি ফেরদৌস আলী বলেন, ‘পারিবারিক কলহ সইতে না পেরে সুমী আক্তার দুই শিশুসন্তান নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। আমরা ট্রিপল মার্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
তিনি আরো বলেন, ‘পাটগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তায় সুমী আক্তারের স্বামী রাশেদুজ্জামান রাশেদকে আটক করা হয়েছে। তাকে ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’










