মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে নিখোঁজের ১৩ দিন পর ফাতেমা নামের দুই বছর বয়সী এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের রাউভাগ গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি ঝোপের মধ্যে স্থানীয়রা প্রথমে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত ফাতেমা উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের রাউভাগ গ্রামের আলম মোড়লের মেয়ে। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি নিজ বসতবাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরে স্বজনরা টঙ্গিবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে নিখোঁজের সন্ধানে কাজ শুরু করে পুলিশ।
নিহতের পরিবার জানায়, নিখোঁজের কয়েক দিন পর ফাতেমাকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে দুই ব্যক্তি সেলফোনে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে সেলফোন ট্রাক করে আলী নূর ও মোক্তার হোসেন নামে দুজনকে আটক করা হয়।
স্বজনদের দাবি, মুক্তিপণের টাকা না দেয়াসহ পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করে ফেলায় শিশুটিকে হত্যার পর ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে অপহরণকারী চক্রটি।
টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি মো. রাজিব খান জানান, শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের দায়ের করা অপরহণ মামলায় আলী নূর ও মোক্তার হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তাদের দুদিনের রিমান্ডে এনেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তারপর অন্য কোনো কারণ আছে কিনা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মরদেহের বেশির ভাগ অংশ পচে যাওয়াসহ শিশুটির ডান হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে।










