কুষ্টিয়ায় হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত চারদিনে সহস্রাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১২ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গতকাল ভোর পর্যন্ত ১৪২ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন, যা শয্যার তুলনায় ১৩ গুণ বেশি। হাসপাতালে মোট শয্যা সংখ্যা ২৫০। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তের হার কমার কোনো আলামত তারা দেখছেন না।
গতকাল সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। তাদের কাউকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বিদায় করা হচ্ছে। আবার কাউকে ভর্তি করে নেয়া হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সরা। শয্যা ও বারান্দায় জায়গা স্বল্পতার কারণে গাদাগাদি করে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার জানান, ওষুধ নয়, তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীদের শয্যার ব্যবস্থা করতে পারছেন না তারা। তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের ভালো পরিবেশ দিতে পারলে দ্রত উন্নতি করা সম্ভব। কিন্তু আমরা সেটি পারছি না।’
এদিকে আক্রান্ত রোগীদের মেঝেতে রাখায় অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। শয্যা সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। রোগীর চাপ থাকায় হাসপাতালের বহির্বিভাগেও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বহির্বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা কবির জানান, কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আগে কমবয়সীরা আক্রান্ত হলেও এখন সব বয়সীরাই আসছেন। তিনি জানান, ১২ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। আক্রান্তদের সারিয়ে তোলার আগেই নতুন রোগী ভর্তি নিতে হচ্ছে। তবে হাসপাতালে ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই। ঘাটতি রয়েছে পর্যাপ্ত শয্যা ও নার্স।
হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত কুষ্টিয়ার থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন-উর রশিদ আসকারী। তিনি তিনদিন ধরে আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, বারান্দায় ধুলা-বালি ও গরম। একই সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব। খুব কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে।
বিভিন্ন ওয়ার্ডের পথে ও মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। খোলা বারান্দায় অনেক সময় হাঁটার জায়গা না থাকায় শয্যার ওপর দিয়ে জুতা পায়ে চলাফেরা করছেন রোগীর স্বজনরা।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এএইচএম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলার মধ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভা ও মিরপুর উপজেলায় তুলনামূলক ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি। এটি মৌসুমি রোগ। এ সময় এটি হয়ে থাকে। আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য জেলার সব সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’










