শিক্ষা ছুটি না নিয়ে নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব বার্গেন থেকে মিডিয়া স্টাডিজ বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় গতকাল তাকে চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট। চিঠিতে অধ্যাপক মফিজুর রহমানকে নিয়মনীতি পালনে যত্নশীল থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে,২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবণীর একটি কপি বণিক বার্তার হাতে রয়েছে। যেখানে বলা হয়,অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নরওয়ের বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি (কোলাবরেশন এগ্রিমেন্ট) অনুযায়ী পিএইচডি ডিগ্রির জন্য নিবন্ধন করে বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। চুক্তির ৪ নম্বর ধারায় পিএইচডিকালীন শিক্ষাকতা চাকরি থেকে ছুটি নেয়ার শর্ত ছিল। তবে তিনি সেই ধারা অনুসরণ করেননি।

সভায় আরো বলা হয়, পিএইচডি রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে কোনো পর্যায়ই মফিজুর রহমান বিভাগকে বিষয়টি অবগত করেননি। নরওয়ের বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষণার কার্যক্রম বিষয়ে বিভাগকে অবগত ও অবহিত না করা এবং সম্পাদিত চুক্তির উল্লেখিত শর্ত লঙ্ঘন করে অধ্যাপক মফিজুর রহমান নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে যেহেতু বার্গেন বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি দিয়েছে, তাই ডিগ্রির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ গ্রহণ করে অধ্যাপক মফিজুর রহমানকে সতর্ক করা উচিত, যেন ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা গবেষক এ ধরনের নিয়মনীতির ব্যত্যয় না ঘটান।

তবে কমিটির প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাস্তি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন একজন সিন্ডিকেট সদস্য। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি একইসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন ভাতা পেয়েছেন সেহেতু ঢাবি প্রশাসন প্রদত্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা জব্দ করা যেতে পারত।

২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হিসেবে হলেন আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।