আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে নড়াইলে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাত-আটটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গতকাল ভোর ৫টার দিকে সদর উপজেলার শিঙ্গাশোল ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরো দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোল ইউনিয়নের রহমত হোসেনের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের বিরোধ চলে আসছিল। রহমত হোসেন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খয়ের মোল্যার সমর্থক। নিহতরা তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও ৯-১০ বছর আগে গ্রাম্য মারামারি এড়িয়ে থাকতে পার্শ্ববর্তী বড়কুলা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, গতকাল ভোরে খায়ের মোল্লার লোকজন হঠাৎ হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। নিহতরা হলেন বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১), ফেরদাউস হোসেন (৪০) ও ওসিকুর ফকির (৩৬)।

নিহত খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম জানান, সাহরি শেষে তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্যার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়ি প্রবেশ করে। পরে তার স্বামী ও ছেলেকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। এ ঘটনায় আহত ওসিকুর ফকিরকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল-মামুন শিকদার জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ এ ব্যাপারে কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। নিহত নিলু মুন্সী (৫০) উপজেলার কমলাপুর গ্রামের আনোয়ার মুন্সীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে কমলাপুর গ্রামে আনোয়ার মুন্সী ও নূর ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিলু মুন্সী (৫০), তার স্ত্রী রুপা বেগম (৪০), ভাই মিলন মুন্সী (৫২) ও দুলাল মুন্সী (৪০) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিলু মুন্সীকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও র‌্যাব সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।

অন্যদিকে রাজবাড়ীর বানিবহ ইউনিয়নের বেথুলিয়া মিয়াপাড়া গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতর আলী শেখ নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৬ জন। নিহত আতর আলী শেখ সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বেথুলিয়া মিয়াপাড়া এলাকার আইনউদ্দিন শেখের ছেলে। গতকাল বিকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এর আগে সকাল ৭টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।