দেশের মধ্যে করোনা ভাইরাসের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জে দিন দিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন আরো ৬৯ জন। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে মোট ৪৯৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ২ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৫ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে বুধবার লকডাউনের ১৫তম দিন চলছে। নারায়ণগঞ্জ শহরসহ ৫টি উপজেলায় আসন্ন রজমান উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাসহ বিভিন্ন কারণে লোকজনের সমাগম কিছুটা বেড়েছে। লোকজনকে বাসায় থাকতে ও এ জেলা থেকে অন্য জায়গায় লোকজন যাতে যেতে না পারে সেজন্য সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা-লিংকরোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চলাচল আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৬৪ জন, সদর উপজেলায় ৭৯ জন, বন্দর উপজেলায় ২৯ জন, সোনারগাঁও উপজেলায় ৮ জন, রূপগঞ্জ উপজেলায় ৭ জন ও আড়াইহাজার উপজেলায় ১২ জন।
নারায়ণগঞ্জে লকডাউনে ১৫তম দিনেও লোকজন যেন বাসায় অবস্থান করেন এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে কোনো লোকজন বের হয়ে অন্য জেলায় যেতে না পারে সেজন্য চেকপোস্ট, পেট্রোল টিম ও নৌপথে একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে আসন্ন রজমান উপলক্ষে নিত্যপণ্য জিনিসপত্র কেনার অজুহাতে দোকানপাট, রাস্তাঘাটে কিছুটা লোকজনের সমাগম বেড়েছে। সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তেমন একটা আগের তুলনায় তৎপর থাকতে দেখা যায়নি। তবে রাতের বেলা ধান কাটার অজুহাতে কিছু কিছু লোকজন নারায়ণগঞ্জ ছাড়তেও দেখা গেছে।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতনসড়ক বিভিন্ন সড়ক প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চলাচল আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়ক ব্যাটারী চালিত রিক্সার ও অটো রিক্সা চলাচল আগের তুলনা কিছু বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, নারায়ণগঞ্জ লকডাউনে ১৫তম দিনেও লোকজন যেন বাসায় অবস্থান করেন এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে কোনো লোক বের হয়ে অন্য জেলা যেতে না পারে সেজন্য চেকপোস্ট, পেট্রোল টিম ও নৌপথে একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গত এক সপ্তাহের কমপক্ষে ৩ হাজার লোকজনকে অন্য জেলায় যাওয়ার সময় আটক করে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পাড়ামহল্লা ও অলি-গলিতে লোকজনের সমাগম কমাতে ডিবি পুলিশসহ গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে।










