উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সরমহল গ্রামের সিংহবাড়ীর খালে ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়ক। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই স্থানীয়রা সেতু ও সংযোগ সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণের কারণে গত বুধবার থেকে সংযোগ সড়কে ধস নামে। দেখা দেয় বড় ফাটল।

স্থানীয়দের দাবি, কাজের শুরু থেকেই সংযোগ সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন তারা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ অস্বীকার করে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করেছে।

নলছিটি উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু ও দুই পাশে ১০৪ মিটার সংযোগ সড়কের কাজের জন্য খরচ হয়েছে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ সেতু ও সংযোগ সড়কের কার্যাদেশ দেয়া হয়। এর মাধ্যমে কুশঙ্গল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম সংযুক্ত হবে।

সরজমিন দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগের তিন দিকের সড়ক বৃষ্টিতে ধসে গেছে। এছাড়া সেতুর গোড়ায় বাঁধাই করা ব্লক সরে গেছে। সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম দিকের সংযোগের বালি সরে গিয়ে কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ব্লকগুলোও ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ঠিকাদারের লোকজন ফাটল ও ধসে পড়া অংশ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর দিকে ধীরগতি ছিল। কিন্তু যথাসময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য শেষের দিকে এসে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এলজিইডি কর্মকর্তাদের সঠিক তত্ত্বাবধান না থাকায় ও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় বৃষ্টিতে ধসে গেছে সেতুতে ওঠার সড়কটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স এমএম এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে কাজটি পান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম আল-আমীন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিক্রি করেন মো. নান্নু, মনির হোসেন, রিয়াজ ও কামাল হোসেন নামে চার ব্যক্তির কাছে। কাজের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছর সময় বাড়ানো হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন মনির হোসেন বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভারি বর্ষণে সংযোগ সড়কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা সংস্কার করা হবে।’

কুশঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন সিকদার বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিক্তিতে নির্মাণাধীন সেতুটি আগামী সেপ্টেম্বরে উদ্বোধনের কথা ছিল। এমন সময় সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার খবর পেয়ে আমি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ঠিকাদার দ্রুত সংস্কার করে দেবে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করলে বিল দেয়া হবে না।’