বিশেষ করে বরিশালসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিরতে নৌ ও সড়কপথে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। বরিশাল নদীবন্দর ও নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। লঞ্চে কেবিন ও ডেক দুই জায়গাতেই যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ লক্ষ করা গেছে।

নদীবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে ছয়-সাতটি লঞ্চ বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। যার প্রতিটিতেই যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে একই চিত্র। ঢাকাগামী বাসগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিটের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বিশেষ করে সকাল ও বিকালের ট্রিপগুলোতে চাপ সবচেয়ে বেশি।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শহিদুল ইসলাম জানান, ঈদের দুদিন আগে তিনি লঞ্চে করে বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি শেষে আবার ঢাকায় ফিরতে গিয়ে তাকে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। লঞ্চের কেবিন তো দূরের কথা, সাধারণ টিকিট পেতেও অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত টিকিট পেয়ে ঢাকায় ফিরছেন তিনি।

একই চিত্র দেখা গেছে বাস টার্মিনালেও। সেখানে কথা হয় যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন সিপনের সঙ্গে। তিনি জানান, যাত্রী বেশি হওয়ায় বাসের টিকিট পেতে সিরিয়াল দিতে হয়েছে। অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সাকুরা পরিবহনের একটি টিকিট পেয়েছেন।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী চলাচল প্রতি বছরই বাড়ে। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাসে চাপ বাড়লেও নৌপথে যাত্রী কিছুটা কম থাকে। তবে ঈদের পর ফিরতি যাত্রায় লঞ্চে চাপ বেড়েছে।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও টার্মিনালগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে। সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এ যাত্রা যেন এক নতুন কর্মচাঞ্চল্যের সূচনা করেছে।

২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। ১৭ মার্চ শবেকদরের ছুটি এবং ঈদের পাঁচদিনের ছুটির মাঝখানে ১৮ মার্চ একদিন অফিস খোলা ছিল। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এতে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭-২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাতদিন ছুটি পান সরকারি চাকরিজীবীরা।