আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে মেহেরপুরের গাংনীতে ঠাণ্ডাজনিত রোগ ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শুধু শহর অঞ্চল নয়, গ্রামের ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে জ্বর, কাশি ও ডায়রিয়া। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। ফলে হাসপাতালে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। এতে রোগীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। হাসপাতালের মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে তাদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেকেই আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেড়ে ভর্তি হচ্ছেন বিভিন্ন ক্লিনিকে। আবার করোনা মহামারীর কারণে অনেকে বাড়িতে অথবা ক্লিনিকের কেবিন ভাড়া করেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গতকাল সারাদিন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ব্যবস্থাপত্র নিয়েছেন ২ হাজার ২০৭ জন। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৫ জন।
মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে ৩৭ জন রোগি ভর্তি রয়েছে, তার মধ্যে ১২ জন শিশু ও ২৫ জন নারী চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৮ জন। যার মধ্যে অধিকাংশই আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত রোগ ভাইরাস জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী উপজেলার নওপাড়ার পাঁচ বছর বয়সীর সুমির মা লিলি খাতুন জানান, চারদিন ধরে আমার বাচ্চার জ্বর। গতকাল গাংনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শয্যা খালি না থাকায় হাসপাতালের মেঝেতেই শুয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
জোরপুকুরিয়া গ্রামের ৩ বছরের শিশু হামামের বাবা কাউসার জানান, আমার মেয়ের পাঁচদিন ধরে জ্বর-ঠাণ্ডা। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে রোগ ভালো না হওয়ায় গাংনী হাসপাতালে ভর্তি করেছি, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার নিউমোনিয়া।
মাইলমারী গ্রামের ৬ বছরের শিশু আরাফাতের মা সাগরী জানান, হঠাৎ আমার ছেলেসহ পাড়ায় বেশকিছু ছোট ছেলে ও বৃদ্ধদের জ্বর-সর্দি দেখা দিয়েছে। অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু আমার ছেলের বয়স কম হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।
গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এমকে রেজা জানান, গত কয়েকদিন আগেও প্রচণ্ড গরম ছিল। এরপর হঠাৎ ঠাণ্ডাভাব দেখা দিয়েছে। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে আমাদের হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকদিনে বহির্বিভাগে ব্যাপক রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা গতকাল আউটডোর ও ইমার্জেন্সিতে ২ হাজার ২০৭ রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছি। একদিনে এতো রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। এসব রোগীর বেশির ভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, প্রতি বছর এ মৌসুমে ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়ার ও নিউমানিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। আমাদের হাসপাতাল ৫০ শয্যার, কিন্তু রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে মেঝেতে বা বহির্বিভাগে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকার পরও মেঝেতে নানাভাবে ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।










