পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার এবং প্রতিষ্ঠানটির হেলথ ফুড ড্রিংকসের (হরলিকস, বুস্ট ও গ্ল্যাক্সোজ ডি) ব্যবসা অ্যাংলো-ডাচ বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার কিনে নিচ্ছে বলে ঘোষণা আসে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর। এরপর চলতি বছরের ২৮ জুন ইউনিলিভার কর্তৃক শেয়ার কেনার মাধ্যমে এ অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলেও জিএসকের হেলথ ফুড ড্রিংকসের মালিকানা ও ব্যবসা বিক্রি করে দেয়া, ইনটেনজিবল বা অদৃশ্য সম্পদ যেমন সুনাম, ব্র্যান্ড পরিচিতি, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইটসের ভবিষ্যৎসহ আরো বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানাই রয়ে গেছে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের কাছে। এমনকি এসব বিষয়ে অন্ধকারে রয়েছে খোদ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি)।

শেয়ার কেনার বিষয়ে আনুষঙ্গিক সব তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করা হলেও ব্যবসা স্বত্ব পরিবর্তনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অপ্রকাশিত রেখেছে জিএসকে বাংলাদেশ ও ইউনিলিভার দুই প্রতিষ্ঠানই। ফলে জিএসকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীরা অধিগ্রহণ-পরবর্তী কোম্পানিটির ব্যবসায়িক মডেল সম্পর্কে অন্ধকারে রয়ে গেছে। বিষয়টি নজর এড়ায়নি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থারও। এ কারণে কোম্পানিটির কাছে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বিএসইসি। যদিও এখন পর্যন্ত সব তথ্য পায়নি তারা।

২০১৮ সালের ২২ জুলাই হঠাৎ করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত ওষুধ কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় জিএসকে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। এরপর ২৭ জুলাই কোম্পানিটির চেয়ারম্যান এম আজিজুল হক রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেন। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই বছরের ডিসেম্বরে কোম্পানিটির পুরো শেয়ার ইউনিলিভারের কাছে বিক্রির ঘোষণা দেয় জিএসকে বাংলাদেশের মূল কোম্পানি সেটফার্স্ট। এজন্য বহুজাতিক দুই কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ক্রয় চুক্তিও (এসপিএ) স্বাক্ষরিত হয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দেড় বছর পর চলতি বছরের ২৮ জুন যুক্তরাজ্যের সেটফার্স্টের কাছ থেকে ২ হাজার ২০ কোটি টাকায় জিএসকে বাংলাদেশের ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ১৪৪টি শেয়ার কিনে নেয় ইউনিলিভারের সাবসিডিয়ারি ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বি.ভি.। প্রথমে ইউনিলিভার এনভি জিএসকে বাংলাদেশের শেয়ার কেনার কথা থাকলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বি.ভি. শেয়ার কিনবে বলে কোম্পানিটির পক্ষে ঘোষণা দেয়া হয়।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত ইউনিলিভারের ২০২০ সালের প্রথম অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে জিএসকের শেয়ার অধিগ্রহণের বিষয়টি শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইউনিলিভার গ্রুপের সাবসিডিয়ারি হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন কনজিউমার হেলথকেয়ার লিমিটেডের সব শেয়ারসহ হরলিকসের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস কিনে নিয়েছে। এছাড়া এশিয়ার ২০টি দেশে জিএসকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম কিনে নিয়েছে ইউনিলিভার ফুডস (মালয়েশিয়া) এসডিএন বিএইচডি ও ইউনিলিভার এশিয়া প্যাসিফিক লিমিটেড (সিঙ্গাপুর)।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ব্যবসার বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে হরলিকসের ব্যবসা অধিগ্রহণের বিষয়টি মূল হরলিকস অধিগ্রহণের চেয়ে আলাদা। এক্ষেত্রে ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিং বি.ভি. জিএসকে বাংলাদেশের ৮২ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। আর ইউনিলিভার পিএলসি জিএসকে বাংলাদেশের হেলথ ফুড ড্রিংকসের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি কিনেছে। যদিও বাংলাদেশে অধিগ্রহণসংক্রান্ত যত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তার কোনোটিতেই ছিল না গুরুত্বপূর্ণ এ তথ্য। অথচ লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিষয়টি ঠিকই প্রকাশ করেছে ইউনিলিভার।

ইউনিলিভার কর্তৃক জিএসকে বাংলাদেশকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি জানতে চলতি বছরের ১১ নভেম্বর জিএসকে বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল বিএসইসি। বিএসইসির ওই চিঠির অনুলিপি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব, এনবিআরের চেয়ারম্যান, বিএফআইইউর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কোম্পানিটির নিরীক্ষক হুদা-ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়, কোম্পানিটি ব্যবসা অধিগ্রহণ, ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া ও মুনাফার ওপর এর প্রভাব এবং নগদ প্রবাহের ওপর প্রভাবের বিষয়ে পর্যাপ্ত ও যথাসময়ে তথ্য প্রকাশ করেনি। জিএসকে বাংলাদেশের সম্পদের বড় অংশই ছিল ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের। এটি বন্ধ করে দেয়ার কারণে কোম্পানিটির সম্পদের উল্লেখযোগ্য অংশ কমে গেছে এবং এতে কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের পর উৎপাদন সক্ষমতা প্রকৃতি কেমন হবে, সেটি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কোম্পানিটির বার্ষিক প্রতিবেদনে দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক মডেল এবং এ-সম্পর্কিত ব্র্যান্ড ও পণ্যের পোর্টফোলিওর বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য দেয়া হয়নি এবং এটি বিভ্রান্তিকর বলেও মনে করছে কমিশন। তাছাড়া মালিকানা বদলের পর কোম্পানিটির অনেক ইনটেনজিবল বা অদৃশ্য সম্পদ যেমন সুনাম, ব্র্যান্ড পরিচিতি, পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইটস বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কোম্পানির নগদ প্রবাহের ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব পড়বে এবং সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও প্রভাবিত হবে। কমিশন কোম্পানিটির প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে পাঠানো ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বার্তা থেকে এ বিষয়ে কোনো সময়োপযোগী তথ্য পায়নি।

এদিকে জিএসকে বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড করা হয়েছে। দ্য রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের (আরজেএসসি) তথ্যানুসারে, এটি একটি প্রাইভেট কোম্পানি। কোম্পানিটি দেশে শুধু জিএসকে বাংলাদেশের হেলথ ফুড ড্রিংকস (হরলিকস, বুস্ট ও গ্ল্যাক্সোজ ডি) পণ্য বাজারজাত ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করবে বলে এ বছরের জুনে ইউনিলিভারের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।

কোম্পানিটির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, তারা জিএসকে বাংলাদেশের অন্তর্নিহিত অদৃশ্য সম্পদের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। দেশে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ব্র্যান্ডটির নামের ক্ষেত্রে কী হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাছাড়া সেটফার্স্ট ও ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বি.ভি. দুটোই বাংলাদেশের বাইরে ইনকরপোরেটেড। এক্ষেত্রে দেশের বাইরে নগদ প্রবাহ হয়েছে। এ লেনদেনের ক্ষেত্রে করের প্রভাব কী সে বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে কমিশন বলছে, বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে কোম্পানির পক্ষ থেকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য তারা পায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবসা বন্ধ করা, ইউনিলিভার কর্তৃক জিএসকে বাংলাদেশকে অধিগ্রহণ করাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে পরিপূর্ণ তথ্য ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউনিলিভারের পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে বেশকিছু তথ্য জমা দেয়া হয়েছে। যদিও কোম্পানিটি সেটফার্স্ট ও ইউনিলিভারের মধ্যে স্বাক্ষরিত শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) কমিশনের কাছে জমা দেয়নি। চুক্তিটি পাওয়া গেলে দুই অধিগ্রহণের অজানা অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে মনে করছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, জিএসকে বাংলাদেশের মালিকানায় থাকা সেটফার্স্ট নেদারল্যান্ডসে ইনকরপোরেটেড এসপিভি (স্পেশাল পারপাস ভেহিকল) ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বি.ভি.-এর কাছে শেয়ার বিক্রি করেছে। শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি এক্ষেত্রে ব্যবসাও অধিগ্রহণ হয়েছে। আমরা তাদের কাছে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছি। তাদের অদৃশ্য সম্পদের কী হবে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছি। বিষয়টি আমাদের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমরা জানতে চাই, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে?

কোম্পানিটি এরই মধ্যে কিছু তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার আদ্যোপান্ত জানতে জিএসকে ও ইউনিলিভারের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়া শেয়ার ক্রয় চুক্তিটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা তাদের কাছে এটি চেয়েছি। যদিও তারা এখন পর্যন্ত চুক্তিটি আমাদের দেয়নি। তবে তাদের এটি দিতে হবে।

জিএসকে বাংলাদেশকে ইউনিলিভার কর্তৃক অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়েছে কিনা, তা দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) নজরেও রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বিএসইসিকে সহায়তা করছে। জানতে চাইলে এফআরসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ এফসিএ বণিক বার্তাকে বলেন, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ না করার মাধ্যমে এক্ষেত্রে কোম্পানিটির সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের অন্ধকারে রেখে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে যোগাযোগ করা হয়েছিল ইউনিলিভার বাংলাদেশের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ অ্যান্ড কমিউনিকেশন শামীমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সব ধরনের আইন ও বিধিবিধান পরিপালন করা হয়েছে। বিএসইসি ও ডিএসইকে সময়মতোই সব ধরনের তথ্য দেয়া হয়েছে। আইকনিক ব্র্যান্ডগুলোর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস জিএসকে গ্রুপের কাছে ছিল এবং জিএসকে বাংলাদেশ শুধু গ্রুপের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশের বাজারে ব্র্যান্ডগুলো বাজারজাত করত। বৈশ্বিক চুক্তির অংশ হিসেবে বর্তমানে ইউনিলিভার গ্রুপ মূল আইকনিক ব্র্যান্ডগুলোর স্বত্ব সংরক্ষণ করে আর ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড গ্রুপের অনুমতি সাপেক্ষে ব্র্যান্ডগুলোর বিপণন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও সব আইকনিক ব্র্যান্ডের স্বত্ব রয়েছে মূল গ্রুপের কাছেই, স্থানীয় কোম্পানির কাছে নয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউনিলিভার ও জিএসকের পক্ষ থেকে জারি করা দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, ভারত, বাংলাদেশ ও এশিয়ার অন্য ২০টি দেশের বাজারে জিএসকের চলমান কনজিউমার হেলথ ড্রিংকস ব্যবসা কিনে নিচ্ছে অ্যাংলো-ডাচ জায়ান্ট ইউনিলিভার। এজন্য ইউনিলিভারের ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ, যা নগদ অর্থ ও শেয়ারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। চুক্তি অনুসারে ইউনিলিভার ও জিএসকের এ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ভারতে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেডের (এইচইউএল) সঙ্গে জিএসকে কনজিউমার হেলথকেয়ার ইন্ডিয়ার শতভাগ একীভূতকরণ হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত জিএসকে বাংলাদেশ লিমিটেডের ৮২ শতাংশ শেয়ার (জিএসকের মালিকানাধীন) কিনে নেবে ইউনিলিভার, যার ইকুইটি ভ্যালু দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি ইউরো। তৃতীয় ভাগে নগদ ৪৭ কোটি ডলার ব্যয়ে এশিয়ার অন্য ২০ দেশে জিএসকের হেলথ কেয়ার নিউট্রিশন ব্যবসা ও ব্র্যান্ড স্বত্ব কিনে নেবে ইউনিলিভার। বাংলাদেশের বাজারে হরলিকস, বুস্ট ও গ্ল্যাক্সোজ ডিসহ নিউট্রিশন ব্র্যান্ড ইউনিলিভারের কাছে বিক্রি করা হলেও সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বারোজ ওয়েলকাম অ্যান্ড কোম্পানির (বাংলাদেশ লিমিটেড) মাধ্যমে সেনসোডাইন টুথপেস্ট ও ডাইজেস্টিভ হেলথ ব্র্যান্ড ইনো বিক্রি অব্যাহত থাকবে।

মূলত ২০১৭ সালের মার্চ থেকে জিএসকের প্রধান এমা ওয়ালমসলি প্রতিষ্ঠানটির কনজিউমার হেলথকেয়ার বিজনেস শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি নোভারটিস ও ইউনিলিভারের সঙ্গে যৌথ ব্যবসা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসাকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যান্সারকেন্দ্রিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান টেজারোকে অধিগ্রহণ করেছে জিএসকে। তাছাড়া জিএসকে ও ফাইজার তাদের কনজিউমার হেলথকেয়ার বিজনেসও (ভোক্তা স্বাস্থ্যযত্ন ব্যবসা) একীভূত করছে। এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সংযোজন জিএসকের হেলথ ফুড ড্রিংকস ইউনিলিভারের কাছে বিক্রি করে দেয়া।