আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পথ্য ক্রয় না করতে পারায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা খাদ্য সংকটে পড়েছে। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে কমিটি করে হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা কামনা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালের পথ্যসহ বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয়ের জন্য ২০২১ সালের ২৪ মে মানসিক হাসপাতালের পরিচালক (স্মারক  নং ২০২১/১২০১) দরপত্র আহ্বান করেন। কিন্তু রোজ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ দরপত্র শিডিউলে কিছু ভুলভ্রান্তি ও পরিচালক অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে তাকে কাজ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে মর্মে আদালতে একটি নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করে। আদালত দরপত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে হাসপাতালের পথ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পথ্য ক্রয়ে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভর্তীকৃত রোগীদের খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে দরপত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে ২০২১-২২ অর্থবছরে রোগীদের পথ্য সরবরাহের জন্য স্থানীয় আদেশে পূর্বনিযুক্ত ঠিকাদার খাদ্য সরবরাহ করেন কিন্তু ২০২১-২২ অর্থবছর অতিক্রান্ত হলে বিপাকে পড়ে যায় স্থানীয় প্রশাসন। কারণ দ্বিতীয়বারের জন্য আদেশ দিতে হলে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অপরিহার্য। সে কারণে স্থানীয় প্রশাসন ভর্তীকৃত রোগীদের জন্য স্থানীয়ভাবে কমিটি করে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করছে। একই সঙ্গে কমিটি অনুমোদনসহ ২০২২-২৩ অর্থবছরের খাবার ক্রয়ে অনুমোদনের জন্য মহাপরিচালক বরাবর অনুরোধ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় আগের ঠিকাদার খাদ্য সরবরাহে অনীহা প্রকাশ করেছেন। অন্যান্য হাসপাতালে রোগীদের বাড়ি বা বাইরে থেকে খাবার সরবরাহের সুযোগ থাকলেও, মানসিক হাসপাতালে সে সুযোগ নাই।

এ ব্যাপারে মানসিক হাসপাতালের সুপার ও আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার রায় বলেন, আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কারণে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে না। আমরা স্থানীয়ভাবে রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। তবে এভাবে চলতে থাকলে রোগীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ সমস্যা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।