শ্রাবণ প্রায় শেষ হতে চললেও সাতক্ষীরায় মৌসুমি বৃষ্টির দেখা নেই। ভরা বর্ষা মৌসুমে চারদিকে মাঠের পর মাঠ বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে চৌচির হয়ে আছে। এতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে চলতি আমন উৎপাদনে।

দীর্ঘদিন বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় সাতক্ষীরার অনেক কৃষক ভূ-গর্ভ থেকে পানি উঠিয়ে আমন চাষ শুরু করেছেন। তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম। এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের অভিমত ভূ-গর্ভ থেকে অতি পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর বা লেয়ার নিচে নেমে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালী গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবহান জানান, প্রতি মৌসুমে ১৫-২০ বিঘা পরিমাণ আমন ধান চাষ করেন। চলতি মৌসুমেও ওই পরিমাণ জমিতে আমন চাষ করবেন বলে আশা ছিল তার। কিন্তু দীর্ঘদিন ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অবশেষে ভূ-গর্ভ থেকে পানি তুলে আমন চাষ শুরু করেছেন তিনি। তবে এভাবে যদি পুরো মৌসুম সেচ দিয়ে আমন চাষ করতে হয় তাহলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার একে তো সারের দাম বৃদ্ধি করেছে, তার ওপর বিদ্যুচ্চালিত সেচযন্ত্রের মাধ্যমে আমন উৎপাদন করলে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আব্দুস সোবহান আরো জানান, অন্যান্য মৌসুমে আমন চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ১০-১১ হাজার টাকা। সেখানে চলতি মৌসুমে ১৭-১৮ হাজার টাকা পড়ে যাবে। এর মধ্যে বিঘাপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ পড়বে শুধু পানি উত্তোলন করতে। তাছাড়া কেজিতে ৬ টাকা বেড়েছে সারের দাম। ফলে এবার আমন চাষে লোকসানের আশঙ্কা করছেন এ চাষী।

একই উপজেলার কুখরালী গ্রামের তুহিন হোসেন জানান, বোরোর পানি দিয়ে বীজতলা তৈরি করে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে ধানের চারা রোপণের উপযোগী হয়ে গেছে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এখনো জমি চাষ সম্ভব হয়নি। ফলে ধানের চারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এ কৃষক। তবে দু’একদিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে ভূ-গর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করে আমন চাষ করবেন বলে জানান।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২২-২৩ মৌসুমের জন্য জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ হাজার ৯১০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১১ হাজার ৯০০, তালায় ৯ হাজার ৬০৫, দেবহাটায় ৫ হাজার ৫০৫, কালীগঞ্জে ১৭ হাজার ৫০০, আশাশুনিতে ৯ হাজার ২৬০ এবং শ্যামনগর উপজেলায় ১৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার হেক্টর পরিমাণ জমিতে আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, মৌসুমি বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমন উৎপাদনে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। তার পরও কিছু কিছু এলাকায় ভূ-গর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করে আমন চাষ শুরু করেছেন কৃষক।

বাংলদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলার সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম জানান, বোরো উৎপাদনে কৃষক ভূ-গর্ভের পানির ওপর নির্ভরশীল। এরপর আমনও যদি ভূ-গর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করে চাষ করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিয়ে নেমে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকিতে পড়বে।