তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ৩৩টি বিভাগ থাকলেও অধ্যাপক রয়েছেন কেবল দুটি বিভাগে, তাও একজন করে। আর ১০টি বিভাগে নেই কোনো সহযোগী অধ্যাপকও। ফলে অধিকাংশ বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক দিয়ে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির কয়েকটি বিভাগ চলছে কেবল একজন শিক্ষক দিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুধু ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে একজন করে অধ্যাপক আছেন। বাকি বিভাগগুলোর মধ্যে ২৩টিতে সহযোগী অধ্যাপক থাকলেও ১০টি বিভাগ এখনো জ্যেষ্ঠ শিক্ষকশূন্য। যেসব বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক নেই সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেকচার বিভাগ; বিজ্ঞান অনুষদের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ; জীববিজ্ঞান অনুষদের মনোবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ; বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ; কৃষি অনুষদের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগ ও অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ। বিশেষ করে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ও অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান নির্ভর করে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক সংখ্যার ওপর। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের ঘাটতি থাকলে গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সংযোগ—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অভাবে গবেষণা, থিসিস তদারকি, ফেলোশিপ প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক পরিবেশ থেকে তারা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নিয়োগ ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মান আরো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করেন তারা।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জন রায় বলেন, ‘আমাদের এখানে বর্তমানে ৩৩টি বিভাগ চালু থাকলেও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের সংখ্যা মাত্র দুজন। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক তথ্য নয়, বরং গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। থিসিস ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের একই সঙ্গে ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা এবং একাধিক থিসিস তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরাও যথাযথ একাডেমিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

শিক্ষক সংকট গবেষণাকে দুর্বল করছে জানিয়ে এ শিক্ষার্থী আরো বলেন, ‘ফাইনাল ইয়ারে এ সংকট সবচেয়ে প্রকট হয়। থিসিস, ল্যাব ও ক্যারিয়ার প্রস্তুতির চাপ সামলাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত গবেষণা নির্দেশনা ও ফিডব্যাক পাচ্ছেন না। পাশাপাশি আধুনিক ল্যাব সুবিধা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যবহারিক শিক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে। অধ্যাপক পর্যায়ের গবেষক না থাকায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে শিক্ষক সংকট গবেষণাকে দুর্বল করছে, আবার দুর্বল গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও অর্থায়নকে সীমিত করে দিচ্ছে।’

বাজেট সংকটের কারণে আপাতত অধ্যাপক নিয়োগের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিকভাবে অধ্যাপক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। বাজেট সংকটের কারণে এ মুহূর্তে বড় কোনো পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ৫৭ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করছি ধাপে ধাপে নিয়োগের মাধ্যমে সংকট নিরসন হবে। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষকরা উচ্চপদে আসীন হবেন।’