ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে গুলশান কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে যে ভোটার উপস্থিতি আমি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি, আলহামদুলিল্লাহ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহভরে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। গত দুই দিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমার, ট্রেন ও বাসে করে বিভিন্ন উৎসাহ নিয়ে এলাকায় ফিরে গিয়েছে ভোট দেয়ার জন্য; ইনশাআল্লাহ আজ সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।‘

বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী, আমরা আশাবাদী।‘ ঠিক কতটি আসন প্রত্যাশা করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তত এতটুকু অবশ্যই প্রত্যাশা করছি যে, আমরা খুব সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হব।‘

ভবিষ্যৎ সরকার গঠন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, কম-বেশি সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ পরিচালনা করতে চাই।‘

সারাদেশে ভোটের পরিস্থিতি সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘সারা দেশের খবর আমি এখনো পাইনি। তবে মোবাইলের মাধ্যমে খবরগুলো দেখছিলাম। দেখলাম যে বিভিন্ন জায়গায় এখনো কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল বারবার এসব ঘটিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই না এসব ঘটনা ঘটুক। যারা এসব ঘটাচ্ছে তাদের প্রতি মানুষের বিরূপ ধারণা হবে।‘

সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি বেরিয়ে আসে, ভোটার সংখ্যা যত বাড়বে, বিশ্বাস করি সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা যাবে।‘

ফল ঘোষণা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফল গণনা কেন দেরি হবে? দেরি হবার কোনো কারণ নেই। আমরা প্রত্যাশা করব নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে যাতে মানুষ দ্রুত ফল পায়। ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি একটি স্বাভাবিক টাইম ফ্রেম থাকে। আমরা প্রত্যাশা করব সেই সময়ের মধ্যেই জনগণ রেজাল্ট জানতে পারবে।‘

নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন হয় তাহলে সব দলই আমরা মেনে নেব। কিন্তু শর্ত আছে, নির্বাচনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা দেখছি, সেরকম বিষয় তো অবশ্যই মেনে নেয়া যাবে না।‘

সবশেষে আজকের দিনটিকে একটি ‘স্মরণীয় দিন’ হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দিন শুধু আমাদের আন্দোলনের সফলতা না, ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের কোটি কোটি ভোটার ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত ছিল। আমি মনে করি ১৩ কোটি ভোটারের জন্যই এটি স্মরণীয় দিন। জনগণ যদি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে, তবে আজ থেকেই গণতন্ত্রের নতুন সূচনা হবে।‘