নারায়ণগঞ্জের
রূপগঞ্জে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাজী টায়ারস কারখানায় অনুসন্ধান চালিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফায়ার সার্ভিসের
টিম। গতকাল ভবনটি পরিদর্শন শেষে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব আহসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ঢুকে উদ্ধার অভিযান চালানো খুবই বিপজ্জনক। নিচ থেকে উদ্ধার অভিযান চালানোর চেষ্টা করা হলে ওপর থেকে ভবনটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ভবনটির বেজমেন্ট পরিদর্শন শেষে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সেখানে আটকে পড়া কাউকে বা কারো মরদেহ
পাওয়া যায়নি।
গত রোববার রাত ৯টার দিকে টায়ার প্রস্তুতকারী কারখানাটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। ঘটনার চারদিন পরও উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের আহ্বানে গতকাল সকালে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে একটি টিম ভবন পরিদর্শনে আসেন। অধ্যাপক আহসান ভেতরে ঢুকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো যাবে কিনা সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে ভবনটির চারপাশ ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ভবনের চারপাশ ঘুরে এবং ফায়ার সার্ভিসের ল্যাডারের (মই) সাহায্যে যতটা সম্ভব ঘুরে দেখেছি। ড্রোনের সাহায্যে ধারণ করা ভিডিও ছবিও পর্যবেক্ষণ করেছি। আগুন অনেক সময় ধরে জ্বলেছে। বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল থাকায় তাপও অনেক বেশি হয়েছে। ভবনটি শুধু পুড়ে যায়নি, রডগুলো বেরিয়ে গেছে। ছয়তলা ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলার মেঝে ভেঙে তৃতীয় তলার মেঝেতে পড়ে গেছে। ভাঙা অংশগুলোর ওজনে তৃতীয় তলাও বেঁকে গেছে।’
পরে কারখানার ছয়তলা ভবনের বেজমেন্টে অনুসন্ধান চালিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। তবে ভিক্টিম কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল মান্নান।
তিনি বলেন, ‘ভবনটিতে একটি বেজমেন্ট রয়েছে—এমন তথ্য আমাদের কাছে ছিল। সেখানে কেউ আটকা পড়েছিল কিনা সেটা দেখতে আমাদের একটি দল অনুসন্ধান চালায়। তবে বেজমেন্টে আগুন পৌঁছেনি। সেখানে যেসব মেশিন ছিল সেগুলোও অক্ষত রয়েছে। সেখানে কোনো ভিকটিম পাওয়া যায়নি।’










