বৈঠকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সিলর আলবার্তো জিওভানেত্তি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার, আর্থিক সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, স্ক্যামসহ ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় বল প্রয়োগ করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে মন্ত্রীর কাছে জানতে চান এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদসহ রাজনৈতিক মাঠে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গ্রহণযোগ্য।

সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত (১৬-১৭ মার্চ ২০২৬) ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মন্ত্রী জানান, স্ক্যাম বা ডিজিটাল প্রতারণা বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ছাড়া এটিকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রদূতও ডিজিটাল প্রতারণাকে একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রদূতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘‌বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদ অল্প মাত্রায় থাকতে পারে, তবে তা কখনই সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট ও ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সংস্কার অপরিহার্য।’

রাষ্ট্রদূত একমত পোষণ করে বলেন, ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক।’

পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেন, ‘মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সামগ্রিক সংস্কার খাতে সুইজারল্যান্ড তাদের সহযোগিতা জোরদার করতে পারে।’

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ‘ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’-এর (ইউএনওডিসি) দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।